হোম > সারা দেশ > ঢাকা

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ক্রাশ প্রোগ্রাম চালুর আহ্বান পরিবেশবিদদের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

জনগণকে সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু ক্রাশ প্রোগ্রাম চালুর দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশা নিধন যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত, রোগ নজরদারি জোরদার, দ্রুত চিকিৎসা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রয়োজনে জনগণকে সম্পৃক্ত করে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালুরও দাবি তোলা হয়েছে।

আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলন (পরিজা) এবং পাঁচটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন। পরিজার সভাপতি প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহানের সভাপতিত্বে কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন জনউদ্যোগের সদস্য রাসেল ইসলাম সুজন। কর্মসূচিতে ধারণাপত্র পাঠ করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক উপপরিচালক সাইফুল্লাহ তালুকদার।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পরিজার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসান তারিক চৌধুরী সোহেল, জনউদ্যোগের সদস্যসচিব তারিক হোসেন মিঠুল, পরিজার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হাসান ও মো. সেলিম এবং পরিবেশ বার্তার প্রতিনিধিরা।

বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার যথাযথ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাজেট ও কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা থাকলে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ঘাটতি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

ডেঙ্গুতে মৃত্যু কমাতে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত কর্মসূচি নিতে হবে বলে উল্লেখ করেন বক্তারা। দেশের মানুষ ডেঙ্গুতে আর কোনো মৃত্যু দেখতে চায় না বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন।

মানববন্ধনে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু ৫৭৫ জনের। ২০২৫ সালে আক্রান্ত হন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন, মারা যান ৪১৩ জন।

চলতি বছরের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৯২ হাজার ২১৬ জন এবং মারা গেছেন ২৮৯ জন।

বক্তারা জানান, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। ওই মাসে ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন আক্রান্ত এবং ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণাপত্রে উল্লেখ করা হয়।

অক্টোবরেও সংক্রমণের ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান বক্তারা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানের বাইরে বাস্তবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও দাবি করেন তাঁরা।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বাড়িঘর, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কারের আহ্বান জানান বক্তারা। ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, পরিত্যক্ত টায়ার, এসির পানি জমার স্থান, ড্রেন ও নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন অংশে জমে থাকা পানি অপসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবিও জানান বক্তারা।

ডেঙ্গু রোগীর দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষার সুবিধা, পর্যাপ্ত শয্যা, চিকিৎসক, নার্স, স্যালাইন, রক্ত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানানো হয়।

সংক্রমণ বাড়ছে এমন এলাকা দ্রুত শনাক্ত করে সেখানে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ অভিযান পরিচালনার পরামর্শ দেন বক্তারা।

জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও ধর্মীয় উপাসনালয়কে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তাঁরা। দিনের বেলায়ও মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকা, মশারি ও জানালার নেট ব্যবহার এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশার কামড় থেকে রক্ষা করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।