রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে ফুটপাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার কিশোরের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার ঢাকার শিশু আদালত-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে কিশোরের পক্ষে জামিনের শুনানি করেন আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সময় প্রকৃত গাড়িচালক কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। তাঁর মক্কেল নির্দোষ এবং সে শিশু হওয়ায় জামিন পাওয়ার অধিকারী।
আইনজীবী আরও বলেন, মামলায় সর্বোচ্চ তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে জামিনে আপত্তি নেই বলেও আদালতে জানানো হয়। শুনানির একপর্যায়ে নিহতের বাবা ও ভাই আদালতে হাজির হন।
আদালত জানতে চান, কিশোরটি কতদিন ধরে হাজতে রয়েছে। জবাবে তার আইনজীবী জানান, রোববার পর্যন্ত ১২ দিন ধরে সে হাজতে রয়েছে। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর কিশোরকে আদালতে হাজির করা হলে তাকে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। গত ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মেহেদীর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বাদী হয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, বেপরোয়াভাবে প্রাইভেট কার চালিয়ে মেহেদীকে গাড়িচাপা দিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাঁর মৃত্যু ঘটে। মামলার এজাহারে গাড়িচালক হিসেবে আকাশ মারক নামে একজনকে আসামি করা হয়েছে।
গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদীকে চাপা দিয়ে দুটি ল্যাম্প পোস্টে ধাক্কা দেয়। পরে পথচারী ও নির্মাণশ্রমিকেরা গাড়িটি তুলে তাঁকে উদ্ধার করেন। পুলিশ তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।