হোম > সারা দেশ > ঢাকা

সাভার-আশুলিয়ায় পূজার চাল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

অরূপ রায়, সাভার

ফাইল ছবি

দুর্গাপূজা উপলক্ষে এ বছর প্রতিটি পূজামণ্ডপে চালের বরাদ্দ ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করেছে সরকার। তবে এর সুবিধা ভোগ করতে পারছেন না সাভার-আশুলিয়ার দুর্গামণ্ডপগুলোর পূজারিরা।

অভিযোগ উঠেছে, বরাদ্দপত্র পাওয়ার পর চালের পরিবর্তে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম অর্থ নিয়ে বরাদ্দ বিক্রি করে দিতে হয়েছে তাঁদের।

আশুলিয়ায় প্রতি ৬০০ কেজি চালের বিপরীতে ২০ হাজার টাকা এবং সাভার পৌর এলাকাসহ আশপাশের এলাকার মণ্ডপগুলোয় ২১ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

পূজারিদের অভিযোগ, চালের বরাদ্দ বাড়লেও তাঁরা প্রত্যাশিত মূল্য পাননি। একটি প্রভাবশালী চক্রের কারণে আশুলিয়ার মণ্ডপগুলোর কর্তৃপক্ষ খাদ্যগুদাম থেকে চাল সংগ্রহ করতে পারেননি। অন্যদিকে সাভার পৌর এলাকাসহ আশপাশের এলাকার অর্ধশতাধিক মণ্ডপের চাল একজন ব্যবসায়ী কিনে নিয়েছেন বলে জানান তাঁরা।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সাভার ও আশুলিয়ায় ২৩৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডপের জন্য ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, বরাদ্দপত্র নিয়ে পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের খাদ্যগুদাম থেকে চাল সংগ্রহ করার কথা। কিন্তু চালের পরিবর্তে নগদ অর্থ সংগ্রহ করতে হয়েছে তাঁদের।

পূজারিরা জানান, গত বছর প্রতিটি মণ্ডপে ৫০০ কেজি চালের বিপরীতে কেজিপ্রতি ৪০ টাকা হিসাবে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। এ বছর বরাদ্দ ১০০ কেজি বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হলেও আশুলিয়ার শতাধিক মণ্ডপে দেওয়া হয়েছে একই পরিমাণ অর্থ। ফলে কেজিপ্রতি চালের বিপরীতে এবার তাঁরা পেয়েছেন ৩৩ টাকা ৩৩ পয়সা। গত বছরের হিসাবে ৬০০ কেজি চালের দাম পাওয়ার কথা ২৪ হাজার টাকা। সে হিসাবে আশুলিয়ার মণ্ডপগুলো ৪ হাজার টাকা কম পেয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পূজারিরা।

অন্যদিকে সাভার পৌর এলাকাসহ আশপাশের এলাকার অর্ধশতাধিক মণ্ডপের চাল ২১ হাজার ৫০০ টাকা করে কিনে নিয়েছেন একজন ব্যবসায়ী। পূজারিদের অনুরোধে তিনি এই উদ্যোগ নেন বলে জানা গেছে। ফলে একই উপজেলায় বরাদ্দের চালের বিপরীতে আশুলিয়া ও সাভারের মণ্ডপগুলো ভিন্ন পরিমাণ অর্থ পেয়েছে।

আশুলিয়ার একাধিক পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সোমবার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বরাদ্দপত্র পাওয়ার পর কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সেগুলো নিয়ে নেন। পরে প্রতিটি ৬০০ কেজি চালের বরাদ্দের বিপরীতে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ভবনে বসেই বরাদ্দের চাল কেনাবেচা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন পূজারি। এ সময় পূজা উদযাপন পরিষদের সাভার শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তাঁরা।

পূজা উদযাপন পরিষদের ঢাকা জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্মরণ সাহা বলেন, একশ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তির কারণে পূজারিরা কম দামে চাল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর সঙ্গে সাভার উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের কয়েকজন কর্মকর্তার জড়িত থাকার অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। এসব কারণে পূজারিরা প্রতিবাদ করার সাহস পান না। তিনি আগামী বছর থেকে চালের পরিবর্তে টাকা দেওয়ার দাবি জানান। তাহলে আর অনিয়ম করার সুযোগ থাকবে না বলে মন্তব্য করেন।

অভিযোগের বিষয়ে পূজা উদযাপন পরিষদের সাভার থানা কমিটির সভাপতি বরুণ ভৌমিক বলেন, চাল নিয়ে এ ধরনের কিছু হয়ে থাকলে তা আমার জানা নেই। বিষয়টি দেখার দায়িত্বও তাঁর নয়।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের অভিযোগ তাঁর কাছে এসেছে। এসব কাজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।