হোম > সারা দেশ > ঢাকা

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদারসহ ৪ দাবি হিন্দু মহাজোটের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন হিন্দু মহাজোটের নেতৃবৃন্দ। ছবি: আজকের পত্রিকা

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।

সংগঠনটি বলেছে, পূজার আগে ও পরে এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অতীতে হিন্দু সম্প্রদায় ও তাদের স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এবারও পূজার আগে কয়েকটি জেলায় প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় তারা শঙ্কিত।

আজ শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মহাজোটের নির্বাহী মহাসচিব ও মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িকতা ও রাজনীতির কারণে দেশে ধারাবাহিকভাবে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। অনেকে দেশত্যাগের কথাও ভাবছেন।

পলাশ কান্তি দে বলেন, বিভিন্ন জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে হুমকি দেওয়া, মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, তাদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে হিন্দু সম্প্রদায়ের মনোবল ফিরে আসবে না।

তিনি অভিযোগ করেন, কোনো কোনো ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে তারা জামিনে বেরিয়ে বাদীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। এতে মামলা দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে এবং বিচার আর হয় না।

পলাশ কান্তি দে দাবি করেন, গত ৯ মাসে দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ৪৬ জনের হত্যা ও মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে দীপু দাসকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা এবং ২০২৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর একই জেলার একটি ড্রামের ভেতর নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধরের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও রয়েছে। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন তিনি।

পলাশ কান্তি দে আরও বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চিকিৎসক, শিক্ষক, পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। একের পর এক রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানান তিনি।

এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উল্লেখ করে এ বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট বক্তব্যও দাবি করেন তিনি।

আসন্ন দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে পলাশ কান্তি দে বলেন, আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হবে। ইতিমধ্যে কয়েকটি জেলায় প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী পশ্চিমপাড়া দুর্গামন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, পূজার আরও কয়েক দিন বাকি থাকায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রতিটি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজামণ্ডপে সরকারি খরচে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং পূজার অন্তত ১০ দিন আগে থেকে পূজা শেষ হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানানো হয়।

দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি তিন দিন করার বিষয়ে পলাশ কান্তি দে বলেন, এবার নবমী ও দশমীর ছুটির সঙ্গে ২২ অক্টোবর নির্বাহী আদেশে ছুটি দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের দীর্ঘদিনের দাবি, দুর্গাপূজার মূল তিন দিন—অষ্টমী, নবমী ও দশমী—সরকারি ছুটি ঘোষণা করা। আগামী বছর থেকে এই তিন দিন সাধারণ ছুটি করার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু মহাজোটের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—আগামী বছর থেকে দুর্গাপূজায় অষ্টমী, নবমী ও দশমী তিন দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা; প্রতিটি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজামণ্ডপে সরকারি খরচে সিসিটিভি স্থাপন এবং পূজার ১০ দিন আগে থেকে নিরাপত্তা জোরদার; সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠন; এবং দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং সেল গঠন।

মহাজোটের সভাপতি প্রভাস চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নির্বাহী সভাপতি সুধাংশু চন্দ্র বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।