হোম > সারা দেশ > ঢাকা

বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহত: মামলার আসামি চালক কিশোর নয়, অন্যজন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

রাজধানীর গুলশানে প্রাইভেট কারের চাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান নিহতের ঘটনায় মামলা হলেও যে কিশোর ঘটনার সময় গাড়ি চালাচ্ছিল এবং আটক হয়েছিল তাকে আসামি করা হয়নি। তার পরিবর্তে আসামি করা হয়েছে গাড়িটির মূল চালককে।

পুলিশ জানিয়েছে, এতে তাদের কোনো দায় নেই। নিহতের ভাই যাকে আসামি করেছেন, তারই নাম এজাহারে দেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে একটি দ্রুতগতির প্রাইভেটকার ফুটপাতে বসে থাকা এক শ্রমিককে চাপা দেয়। ওই শ্রমিককে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিলে সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মেহেদী হাসানের বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে।

ঘটনার সময়ের একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, দ্রুতগতির প্রোটন ব্র্যান্ডের সেডান গাড়িটি ফুটপাতে বসে থাকা শ্রমিককে চাপা দিয়ে দুটি ল্যাম্প পোস্টকে ধাক্কা দিয়ে থেমে যায়। এরপর গাড়ির চালকের আসন থেকে কালো টি-শার্ট ও সাদা পায়জামা (ট্রাউজার) পরা এক কিশোর বের হয়। চালকের পাশের আসন থেকে আরেক ব্যক্তি বের হন। দ্রুত পথচারী ও নির্মাণ শ্রমিকেরা গাড়িটিকে তুলে চাপাপড়া শ্রমিককে উদ্ধার করে। ঘটনার পর ওই কিশোর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিরা আটক করে পুলিশে দেয়।

ঘটনাস্থল থেকে ওই কিশোর ও গাড়িটিকে থানায় নেওয়া হয়। গাড়ির কাগজপত্রে দেখা গেছে, গাড়িটি সিগমা আব্বাস নামে একজনের নামে নিবন্ধন। তাঁর স্বামী আব্বাস আলী শরীফ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন ক্যাপ্টেন।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই কিশোরকে থানায় নেওয়ার পর গত মঙ্গলবার রাতেই তাকে পরিবারের কাছে দিয়ে দেওয়া হয়। তাকে গ্রেপ্তার দেখায়নি পুলিশ। উল্টো নিহতের বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম যে মামলা করেছেন, সেই মামলার এজাহারে ওই কিশোরের নাম উল্লেখ করা হয়নি। মামলায় গাড়িটির চালক হিসেবে আকাশ মারক নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গাড়িটির চালক আকাশ মারক বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মেহেদীকে চাপা দেন। এতে তাঁর মাথা, বুক ও পিঠে গুরুতর জখম হয় এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

মামলার বিষয়ে জানতে নিহত শ্রমিকের ভাই মোক্তাদীর ইসলামকে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে আজ বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে লাশ নিহতের গ্রামের বাড়ি ডোমারের সোনারায় পৌঁছায়। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে বিকেল ৫টার পর দাফন করা হয়।

কিশোরকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জায়েদ নূর আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘তার (কিশোরের) বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। শিশু আইনে তার বিষয়টি দেখা হচ্ছে।’