ঢাবির ৭ শিক্ষার্থী আহত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) প্রাইভেট কারের ধাক্কায় আহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রাথমিকভাবে ছয়জন বলা হলেও পরে সাতজনের তথ্য পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের (এফবিএস) গেটসংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এদিকে, শখের বসে গাড়ি চালানোর সময় ব্রেকের বদলে অ্যাকসিলারেটরে চাপ দেওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন গাড়িচালক শিক্ষার্থী সাদমান।
দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের। ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন তাঁর ছেলে সাদমান সাকিব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
আহত সাতজনের মধ্যে ছয়জন মার্কেটিং বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ও একজন ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁদের হাত, পা, হাঁটুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে ও ছিলে যাওয়ার ক্ষত হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীদের প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
দুর্ঘটনার বিষয়ে সাদমান সাকিব বলেন, ‘আমি আগে তেমন গাড়ি চালাইনি। আজকে শখের বসে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলাম। সঙ্গে ড্রাইভারও ছিল। চালাতে চালাতে আমি কলাভবনে একটা রাউন্ড দিয়ে আসি। ওই মুহূর্তে বেশি মানুষ দেখে আমি ভয় পেয়ে যাই। এফবিএসের সামনে এসে ব্রেক দিতে গিয়ে আমি অ্যাকসিলারেটরে চাপ দিয়ে দিই। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি দ্রুতগতিতে ছুটতে থাকে। সামনে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রথমে গাড়ি ধাক্কা দেয়। পরে ড্রাইভারের সহায়তায় গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে আসে।’
তবে দুর্ঘটনার আগে গাড়িটি অস্বাভাবিক গতিতে চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সিনহা মল্লিক। তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাইকেল নিয়ে এফবিএস সড়কে ওঠার সময় গাড়িটি তাঁকে অস্বাভাবিকভাবে ওভারটেক করে। এ সময় গাড়িটি সামনে থাকা রিকশা ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জোরে হর্ন দিচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
দুর্ঘটনার পর উপস্থিত শিক্ষার্থীরা সাদমানকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান। এ সময় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গাড়িটি ভাঙচুর করেন। পরে আহত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে মামলা করার দাবি জানানো হয়। এ দাবিতে শিক্ষার্থীরা লিখিত আবেদন তৈরি করে স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. শান্টু বড়ুয়া বলেন, ‘আহত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় মামলা করার জন্য লিখিতভাবে আমাদের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। প্রক্টর অফিসও এ বিষয়ে ইতিবাচক।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রক্টর অফিসের উদ্যোগে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে মামলা করবে বলে আমরা শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করছি।’
এ বিষয়ে সাদমানের বাবা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা আমি মেনে নেব।’
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. হাবিবুর রহমান জানান, প্রাইভেট কারের চাপায় আহত হয়ে তাহিয়া আক্তার নামের এক শিক্ষার্থী দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢামেকে আসেন। তাঁর বাঁ পায়ে আঘাত ছিল। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়ে চলে যান তিনি।