আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ১৫৫ কোটি ১ লাখ ৪২ হাজার ৭০৮ টাকা ও ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার অবরুদ্ধ করতে আদালতে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব অর্থ স্থানান্তর বা অন্যত্র সরিয়ে ফেলার আশঙ্কায় সম্পদ অবরুদ্ধের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।
আজ রোববার দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা এসব সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর কিংবা বেহাত হয়ে গেলে রাষ্ট্রের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সম্পদ অবরুদ্ধের জন্য আদালতে আবেদন দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
দুদকের নথি অনুযায়ী, কাজী জাফর উল্যাহ, তাঁর স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ের নামে মেঘনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে এসব অর্থ রয়েছে। এর মধ্যে কাজী জাফর উল্যাহর নিজের নামেই রয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। পরিবারের অন্য সদস্যদের হিসাবেও বিপুল পরিমাণ অর্থের সন্ধান পেয়েছে দুদক।
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কাজী জাফর উল্যাহর নামে মেঘনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে মোট ৪৯ কোটি ৭৬ লাখ ৬২ হাজার ২৯৫ টাকা রয়েছে। তাঁর স্ত্রী নিলুফার কাজী জাফর উল্যাহর নামে মিডল্যান্ড ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের হিসাবে রয়েছে ২৬ কোটি ২৫ লাখ ৭৭ হাজার ৯৫ টাকা।
এ ছাড়া তাঁদের ছেলে কাজী ওমর জাফরের নামে মেঘনা, মিডল্যান্ড ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে ২৩ কোটি ৮৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ টাকা রয়েছে। আরেক ছেলে কাজী রায়হান জাফরের নামে মেঘনা ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের হিসাবে ২৩ কোটি ৩৭ লাখ ২৬ হাজার ৮৪৯ টাকা এবং ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারের তথ্য পেয়েছে দুদক।
কাজী জাফর উল্যাহর মেয়ে মেহেরিন জাফরের নামে মেঘনা, মিডল্যান্ড ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে রয়েছে ৩১ কোটি ৭৬ লাখ ৮৫ হাজার ৫০৫ টাকা। পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা এসব অর্থের উৎস ও লেনদেনের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে দুদক।
এর আগে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি কাজী জাফর উল্যাহসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ওই মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের তথ্য পর্যালোচনা করছে সংস্থাটি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে কাজী জাফর উল্যাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এ ছাড়া দুদকের করা মামলায় চলতি বছরের মার্চে হংকং সাংহাই মানজালা টেক্সটাইল লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী কাজী জাফর উল্যাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন কাজী জাফর উল্লাহ। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় এই নেতা দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।