জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও তাঁর ছেলে আসিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত। আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) বিচারক মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।
শাজাহান খান ও আসিবুর রহমানকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান বাদশাহ জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আদালত ১৫ অক্টোবর জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন।
মামলাটিতে আজ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। দুদক তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় আদালত আগামী ২৫ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আয়করদাতা হওয়া সত্ত্বেও আসিবুর রহমানের নামে মোট ১১ কোটি ৭৯ লাখ ৫ হাজার ২৪৮ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ১ কোটি ৮৯ লাখ ৯৯ হাজার ১৮৩ টাকা। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর নামে ৯ কোটি ৮৯ লাখ ৫ হাজার ৬৮৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ও অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অসদুপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে ছেলে আসিবুর রহমানের নামে এসব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন শাজাহান খান।
দুদকের উপপরিচালক কমলেশ মণ্ডল বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মামলাটি করেন।
রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে ২০২৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর শাজাহান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আসিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে দুজন কারাগারে রয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।