নাশকতায় সম্পৃক্ত রয়েছেন—এমন সন্দেহে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ নির্দেশ দেন।
আজ বিকেলে রবিউলকে আদালতে হাজির করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার টিমের এসআই বিনয় কুমার রায়। শুনানি শেষে আদালত চার দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোস্তফা কামাল রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঢাকার উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টর থেকে গত সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে রবিউলকে পুলিশ আটক করে। পুলিশের অভিযোগে বলা হয়েছে, রবিউল ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তাঁর গতিবিধি সন্দেহজনক বলে মনে হয়। তিনি পাসপোর্ট দেখিয়ে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করেছেন। পরে ভারতীয় পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, রবিউলের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডির জন্ম তারিখের সঙ্গে পাসপোর্টের জন্ম তারিখের মিল নেই। তিনি এর আগে অনেকবার বাংলাদেশ ভ্রমণ করলেও সুনির্দিষ্ট কারণ তুলে ধরতে পারেননি। তিনি একেক সময় একেক তথ্য দিচ্ছেন।
৫৪ ধারার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে, আসামি বাংলাদেশে কোনো ধর্তব্য অপরাধে জড়িত আছেন। সম্প্রতি ঢাকা শহরসহ সারা দেশে নাশকতায় তাঁর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রবিউল ইসলামের বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার গৌড়ি ভোজ গ্রামে। তাঁর বাবার নাম শহীদুল ইসলাম।
নাশকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলেও রবিউল এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। আদালতে তোলার সময় সাংবাদিকদের কাছে এই দাবি করেন তিনি।
বাংলাদেশে গার্মেন্টস ব্যবসায় জড়িত থাকার কথা তুলে ধরে সাংবাদিকদের রবিউল জানান, অনেকবারই তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। এখানে অনেক বন্ধুবান্ধবও আছে। তাঁকে গ্রেপ্তার করার মতো কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, ‘অযথা হেনস্তার শিকার হচ্ছি।’
রবিউল বলেন, ‘উনারা (পুলিশ) যা যা বলছেন, কিছুই পাননি। ভারতের “র” এজেন্টের সঙ্গে জড়িত কি না, সন্দেহ করছেন। আসলে আমি এমন কিছু না।’ নিজেকে সাধারণ পরিবারের ছেলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার পরিবারের সবাই চাকরিজীবী। কেউ স্কুলমাস্টার, কেউ পোস্ট অফিসে চাকরি করে। নাশকতার সঙ্গে আমরা সম্পৃক্ততা নই।’
রবিউল জানান, তাঁকে আটকের পর তাঁর পরিবারের কারও সঙ্গে বা বাংলাদেশের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি।