হোম > সারা দেশ > ঢাকা

বিদেশফেরত অভিবাসীদের পুনর্বাসনে সরকার-জাতিসংঘের ৩০ মাসের কর্মসূচি

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা

ঢাকায় যৌথ কর্মসূচির চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী ও আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বন্দ। ছবি: আজকের পত্রিকা

বিদেশফেরত অভিবাসীদের পুনর্বাসনে ৩০ মাসের যৌথ কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘ। কর্মসূচিতে ঝুঁকিপূর্ণ নারী ও শিশু এবং সংকটের কারণে দেশে ফিরতে বাধ্য হওয়া অভিবাসীদের সামাজিক সুরক্ষা, মানসিক সহায়তা ও জীবিকার সুযোগ তৈরিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জাতিসংঘের মাইগ্রেশন মাল্টি-পার্টনার ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে কর্মসূচিটি পরিচালিত হবে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ), জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) ও জাতিসংঘ নারী সংস্থা (ইউএন ওমেন) যৌথভাবে এটি বাস্তবায়ন করবে। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে কর্মসূচির চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী ও আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বন্দ।

ড. লরা টম বন্দ বলেন, অভিবাসন কোনো একমুখী প্রক্রিয়া নয়। দেশে ফিরে আসা অভিবাসীরা যাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সুরক্ষা পেয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারেন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। টেকসইভাবে নতুন জীবন শুরু করতে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—তিন পর্যায়েই সহায়তা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

ড. লরা টম বন্দ বলেন, যৌথ কর্মসূচির মাধ্যমে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো নিজেদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে সমন্বিত ও অভিবাসীবান্ধব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, দেশে ফিরে আসা অভিবাসী ও তাঁদের পরিবারের এমন সেবা, সুযোগ ও সহায়তা প্রয়োজন, যা তাঁদের নতুন করে জীবন গড়ে তুলতে এবং সমাজে অবদান রাখতে সক্ষম করবে। সরকার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে এ সহায়তা আরও শক্তিশালী হবে।

কর্মসূচির আওতায় বিদেশফেরত অভিবাসীদের দীর্ঘ মেয়াদে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহায়তা দেওয়া হবে। সামাজিক নিরাপত্তা ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবার সঙ্গে তাঁদের যুক্ত করার পাশাপাশি জীবিকা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কাজের জন্য বিদেশে গেছেন। তাঁদের মধ্যে ১০ লাখের বেশি নারী। দেশে ফেরার পর অনেকেই চাকরি বা আয় করার সুযোগ, প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া ও বিদেশে থাকার সময়ের নানা মানসিক চাপ মোকাবিলায় সমস্যায় পড়েন। হঠাৎ বা সংকটের কারণে দেশে ফিরতে বাধ্য হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব সমস্যা আরও প্রকট।

কর্মসূচির আওতায় সরকারি প্রতিষ্ঠান ও লিঙ্গ সংবেদনশীল নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ বিদেশফেরতদের চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত করতে সহায়তা দেওয়া হবে। ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথক পুনর্বাসন পরিকল্পনা তৈরি, সেবা প্রদানকারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও শ্রমবাজারে কাজের সুযোগ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হবে।

আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ, মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা, স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম, বৈষম্যমূলক সামাজিক রীতিনীতি মোকাবিলা এবং জেলা পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ পরীক্ষামূলকভাবে নেওয়া হবে।

সরকার ও জাতিসংঘের যৌথ কর্মসূচিটি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। জেন্ডার সমতা ও নারী-শিশুর ক্ষমতায়ন, উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বৈষম্য কমানোর লক্ষ্য অর্জনে এটি ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

অনুষ্ঠানে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও জাতিসংঘ উইংয়ের প্রধান এ কে এম সোহেল, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী, জাতিসংঘ উইংয়ের যুগ্ম সচিব ড. কাজী শাহজাহানসহ সরকারি সংস্থা এবং আইওএম, আইএলও, ইউএনএফপিএ, ইউনিসেফ ও ইউএন ওমেনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।