হোম > সারা দেশ > ঢাকা

সাইবার সহিংসতার ৮০ অভিযোগের মধ্যে ৫৫টিই নারীদের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

সিএসডব্লিউসি। ছবি: লোগো

দেশে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সাইবার সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে। সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন (সিএসডব্লিউসি) প্ল্যাটফর্মে গত ২১ মাসে পাওয়া ৮০টি অভিযোগের মধ্যে ৫৫টিই নারীদের। এসব অভিযোগের মধ্যে অন্তরঙ্গ ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, আপত্তিকর ছবি-ভিডিও প্রকাশ, ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সম্পাদিত আপত্তিকর ছবি প্রকাশ এবং অনলাইন ব্ল্যাকমেলের মতো ঘটনা রয়েছে।

অক্টোবরকে ‘সাইবার সচেতনতা মাস ২০২৬’ হিসেবে পালনের প্রেক্ষাপটে আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে সিএসডব্লিউসি।

নারী ও শিশুদের অনলাইনে সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করতে সহজলভ্য ও ভুক্তভোগীবান্ধব অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা, দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।

সিএসডব্লিউসির ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফেসবুক পেজে পাওয়া অভিযোগের বিশ্লেষণে সাইবার সহিংসতা, ব্যক্তিগত তথ্য, পরিচয় ও গোপনীয়তার অপব্যবহারের চিত্র উঠে এসেছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী—ওই সময়ে মোট ৮০টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ৫৫ জন ভুক্তভোগী নারী এবং ১২ জন পুরুষ। বাকি ১৩ জনের লিঙ্গ শনাক্ত করা যায়নি। পুরুষ আবেদনকারীদের মধ্যে পাঁচজন তাঁদের স্ত্রী, নাবালক কন্যাসন্তান, ভাগনি বা নারী স্বজনের হয়ে সহায়তা চেয়েছেন।

সাইবার সহিংসতার প্রভাব পুরো পরিবারের ওপর পড়ার পাশাপাশি অনেক নারী এখনো এ ধরনের ঘটনায় সরাসরি অভিযোগ করতে আসেন না বলে জানিয়েছে সিএসডব্লিউসি। প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ব্যক্তির মর্যাদা, গোপনীয়তা ও ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মনে করে প্ল্যাটফর্মটি।

সাইবার সহিংসতার এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের সহায়তায় ১৭টি ক্ষেত্রে ক্ষতিকর কনটেন্ট বা ভুয়া অ্যাকাউন্ট অপসারণে সরাসরি সহায়তা করেছে সিএসডব্লিউসি। এ ছাড়া ২১ জন ভুক্তভোগীকে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টে (ব্লাস্ট) আইনি সহায়তার জন্য, পাঁচজনকে স্টপএনসিআইআই ডট অর্গে এবং চারজনকে পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

ব্লাস্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত প্রধান কার্যালয়সহ বিভিন্ন শাখা ও হেল্পলাইনের মাধ্যমে ২৫টি সাইবার-সংক্রান্ত আইনি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনই নারী। এ সময়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করতেও সরাসরি সহায়তা করা হয়েছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলাটি পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্লাস্ট বিনা মূল্যে আইনগত সহায়তা দিচ্ছে।

‘সাইবার সচেতনতা মাস ২০২৬’ উপলক্ষে সরকারের প্রতি তিনটি দাবি জানিয়েছে সিএসডব্লিউসি।

প্ল্যাটফর্মটি বলেছে, সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর প্রস্তাবিত সংশোধনী আইন হিসেবে রূপান্তরের আগে পুনর্বিবেচনা করতে হবে। সংশোধনী নিয়ে পরবর্তী যেকোনো পদক্ষেপের আগে নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যমকর্মী, আইনি বিশেষজ্ঞ, প্রযুক্তিবিদ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে অর্থবহ পরামর্শ প্রক্রিয়া চালুরও দাবি জানিয়েছে তারা।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অধীনে বাংলাদেশের বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং ব্যাপক আলোচনার ভিত্তিতে সংশোধিত খসড়া তৈরির দাবি জানান হয়েছে। তাদের মতে, সংশোধিত আইনে সাইবার পরিসরের বৃহত্তর উদ্বেগের সমাধান এবং নাগরিকদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি থাকতে হবে।

নীরব না থাকার আহ্বান সাইবার সহিংসতার শিকার হলে নীরব না থেকে স্ক্রিনশট, লিংকসহ প্রাসঙ্গিক ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ করে দ্রুত আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিএসডব্লিউসি।

প্ল্যাটফর্মটি সবাইকে ব্যক্তিগত তথ্য ও অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখা, সন্দেহজনক লিংক বা বার্তায় সতর্ক থাকা এবং যাচাই না করে কোনো কনটেন্ট শেয়ার না করার পরামর্শ দিয়েছে। শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের অনলাইন নিরাপত্তায় অভিভাবকদের তাঁদের ডিজিটাল কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন থাকারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

ব্লাস্টের উদ্যোগে ১৭টি সংগঠনের সমন্বয়ে সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন প্ল্যাটফর্ম গঠিত হয়েছে। প্ল্যাটফর্মটির আহ্বায়ক ব্লাস্ট, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন (সিক্যাফ) এবং সদস্যসচিব নারীপক্ষ। নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা প্রতিরোধ, আইনি সহায়তা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।