আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রীটি কম্পোজিং লিমিটেডে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আটজন নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছেন। তিতাস গ্যাস কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সিএনজি স্টেশন থেকে পরিবহনযোগ্য সিলিন্ডারে অবৈধভাবে আনা গ্যাস কারখানায় ব্যবহার করা হতো। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় কারখানা চত্বরে থাকা কাভার্ড ভ্যানের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।
সন্ধ্যায় কারখানা চত্বরে থাকা আটটি কাভার্ড ভ্যানের ভেতরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলে ও পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আটজনের মৃত্যু হয়। আহত হন ২৬ জন। তাঁদের বেশির ভাগই কারখানার আশপাশের এলাকার সবজি বিক্রেতা ও পথচারী।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন। বিস্ফোরণের সময় তিনি কারখানার বাইরে ছিলেন। বিস্ফোরিত সিলিন্ডারের আঘাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
অগ্নিদগ্ধ চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার দুপুরের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়।
এদিকে, নিহত আটজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মোছাম্মত জয়নব বেগম (৫৫); তাঁর বাড়ি গাজীপুরের কাশিমপুরের ইসরকান্দি এলাকায় এবং অন্যজন হলেন নজরুল ইসলাম (৩০); তাঁর বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আবুডাঙ্গা গ্রামে। কাভার্ড ভ্যান থেকে উদ্ধার করা মরদেহের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।
তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। ঘটনা তদন্তে সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ঢাকা উত্তরের জোন-৪-এর উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অধিকতর তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার মূল কারণ জানানো হবে।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির কর্মকর্তারা বলছেন, সিএনজি স্টেশন থেকে পরিবহনযোগ্য সিলিন্ডারে গ্যাস নিয়ে শিল্পকারখানা বা গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ। এরপরও বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন থেকে এভাবে গ্যাস সংগ্রহ করে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিতাসের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রীটি গ্রুপের কারখানাগুলোতেও সিলিন্ডারে অবৈধভাবে গ্যাস এনে ব্যবহার করা হতো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তিতাসের নজর এড়াতে সিলিন্ডারগুলো কাভার্ড ভ্যানে করে আনা-নেওয়া করা হতো।
তিতাস গ্যাসের মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. আল আমিন বলেন, সিএনজি স্টেশন থেকে পরিবহনযোগ্য সিলিন্ডারে গ্যাস সংগ্রহ করে কারখানাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ধরনের ব্যবহারের কারণে মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনা ঘটছে। পরিবহনযোগ্য কোনো সিলিন্ডারে যাতে সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস সরবরাহ বা বিক্রি করা না হয়, সে জন্য দেশের সব সিএনজি স্টেশনকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও কিছু স্টেশন অধিক মুনাফার আশায় শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়ির জেনারেটর চালানোর জন্য এসব সিলিন্ডারে গোপনে গ্যাস সরবরাহ করছে।
আল আমিনের ভাষ্য, সতর্ক করার পরও এভাবে গ্যাস বিক্রি বা সরবরাহ বন্ধ না হওয়ায় আশুলিয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনায় আটজনের প্রাণহানি ঘটেছে।
এ ঘটনায় আজ দুপুর পর্যন্ত আশুলিয়া থানায় কোনো মামলা হয়নি। মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। মামলা করার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আজকের মধ্যেই মামলা করা হবে।
দুর্ঘটনার পর আজ কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কারখানাটি ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে শিল্প পুলিশও কাজ করছে। বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ ও কারখানায় এভাবে গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা দায় ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।