হোম > সারা দেশ > ঢাকা

ভিয়েতনাম-কম্বোডিয়ায় কুরিয়ারে পাচার হতো ক্যানসারের ওষুধ, চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৪

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

সাড়ে ৭ কোটি টাকা মূল্যের ক্যানসারের ওষুধ পাচারের অভিযোগে চারজনতে গ্রেপ্তার করে এসআরবি। ছবি: সংগৃহীত

লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনামসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ক্যানসারসহ জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ পাচারের অভিযোগে এক চীনা নাগরিকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৩। তাদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা বাজারমূল্যের বাংলাদেশি ওষুধ এবং নগদ ৬ লাখ ৬ হাজার ১৪০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার চারজন—চীনা নাগরিক লি ফেন (৩৪), বকুল নাহার বীথি (২৪), ইউনুস আলী (২৬) ও সজীব হাওলাদার (২৮)।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

এসআরবি-৩ জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে ওষুধ পাচার করে আসছিল। বাংলাদেশে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়—এমন বিভিন্ন ওষুধ, বিশেষ করে ক্যানসারসহ জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ চক্রটি বিদেশে পাঠাত। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ২৪ থেকে ২৫ কেজি ওজনের কার্টনে এসব ওষুধ পাঠানো হতো।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চীনা নাগরিক লি ফেন ২০২৪ সালের আগস্টে পর্যটক ভিসায় বাংলাদেশে আসেন। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই-তিন দিন আগে চীনে ফিরে গিয়ে আবারও পর্যটক ভিসায় বাংলাদেশে আসতেন তিনি। গ্রেপ্তার বকুল নাহার বীথি ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চীনের হুনান নরমাল ইউনিভার্সিটিতে ব্যবসায় প্রশাসনে পড়াশোনা করেন। এ সময় তিনি চীনা ভাষা শেখেন। পরে বাংলাদেশে ফিরে বিভিন্ন চীনা নাগরিকের দোভাষী হিসেবে কাজ করেন।

এসআরবি-৩-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর লাওসের শুল্ক কর্তৃপক্ষ বৈধ কাগজপত্র না থাকায় কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠানো ১০০ কেজি ওজনের একটি ওষুধের চালান জব্দ করে। এ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট চক্রের কার্যক্রম নিয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়।

অভিযানসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির কিছু অসাধু কর্মচারী অধিক মুনাফার আশায় এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। তাদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জব্দ করা ওষুধের ধরন ও পরিমাণ, পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট ওষুধ কোম্পানির কর্মীদের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।