রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দখলমুক্ত করা ফুটপাত সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধন শেষে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সংস্কার করা ফুটপাতে নতুন ডাস্টবিন ও বেঞ্চ স্থাপনের পাশাপাশি সীমানা প্রাচীরও সংস্কার করা হয়েছে। সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে ফুটপাতসংলগ্ন এলাকায় দেশের শিল্প-সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে।
সোমবার সকালে সেগুনবাগিচায় এই সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখল করে কোনো হকারকে বসতে দেওয়া হবে না। হকারদের জন্য নির্ধারিত বিকল্প স্থানে তাদের ব্যবসা করতে হবে। উচ্ছেদের পর কেউ আবার নিষিদ্ধ স্থানে বসলে মালামাল ক্রোকসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে উচ্ছেদ করতে চাই না, কিংবা গরিব হকারদের পুঁজির ক্ষতি হোক সেটাও আমাদের কাম্য নয়। এজন্যই তাদের বিকল্প জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।’
প্রশাসক জানান, পীর ইয়ামেনী মাজার এলাকায় শুক্র ও শনিবার ‘হলিডে মার্কেট’ এবং অন্যান্য দিনে আইডিয়াল স্কুলের বিপরীত পাশের সড়কের ফুটপাতে হকারদের বসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। হকার সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে একাধিক আলোচনার মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, কোথাও মূল সড়ক বন্ধ করে কিংবা অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো ফুটপাতে হকার বসতে দেওয়া হবে না।
সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করার প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, যে স্থান দিয়ে আগে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারত না, নিরলস প্রচেষ্টায় সেটিকে হকারমুক্ত করা হয়েছে। শিল্পকলা একাডেমি সংলগ্ন এলাকাটিকে একটি পরিচ্ছন্ন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল হিসেবে গড়ে তুলতে চায় ডিএসসিসি।
এলাকাটি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা পালন করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, সৌন্দর্য ও পরিবেশ বজায় রাখতে শিল্পকলা একাডেমি এবং সাধারণ নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
ঢাকাকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখতে সাংবাদিক, হকারসহ সর্বস্তরের নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন ডিএসসিসির প্রশাসক। তিনি বলেন, ঢাকাকে ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন’ রাখা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এটি ঢাকাবাসীরও নাগরিক দায়িত্ব।