ঢাকা মহানগর অঞ্চলে মনোরেল চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সমীক্ষা শুরু করছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। ছয় মাসের মধ্যে সমীক্ষা শেষ করে সম্ভাব্য রুটগুলোর মধ্যে দুটি অগ্রাধিকারযোগ্য মনোরেল করিডর চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বিদ্যমান ও পরিকল্পনাধীন মেট্রোরেলের সঙ্গে মনোরেলের সংযোগ ও সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।
আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ডিটিসিএ ভবনে এ-সংক্রান্ত পরামর্শক সেবার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ডিটিসিএর সঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন (বিআরটিসি) এ চুক্তি করেছে। সমীক্ষাটি সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত হবে। এই সমীক্ষায় ব্যয় হবে সাড়ে সাত কোটি টাকা।
ডিটিসিএর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান এবং বুয়েটের বিআরটিসির পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ ইশতিয়াক আহমদ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমান।
ডিটিসিএর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগর অঞ্চলে বিদ্যমান ও পরিকল্পনাধীন গণপরিবহন ব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবে এলিভেটেড মনোরেল চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। বিশেষ করে মেট্রোরেল ও বাস র্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) সঙ্গে মনোরেলের সংযোগ এবং যাত্রী চলাচলের সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।
সমীক্ষার আওতায় নগর অঞ্চল পরিবহন কৌশলগত পরিকল্পনায় (ইউআরএসটিপি) প্রস্তাবিত পাঁচটি মনোরেল রুটসহ অন্যান্য সম্ভাব্য রুট বিশ্লেষণ করা হবে। এসব রুটের মধ্যে থেকে দুটি অগ্রাধিকারযোগ্য করিডোর চূড়ান্ত করতে কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত মূল্যায়ন করা হবে। তবে পরামর্শ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ১৪ টি রুটের সমীক্ষা চালানোর কথা বলা হয়েছে।
এ জন্য সম্ভাব্য রুট ও অ্যালাইনমেন্ট বিশ্লেষণ, স্টেশন ও ডিপোর স্থান নির্বাচন, যাত্রী চাহিদা প্রাক্কলন এবং অবকাঠামোর কারিগরি উপযোগিতা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব এবং প্রকল্পের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন করা হবে।
ডিটিসিএ বলছে, ঢাকা মহানগর অঞ্চলে জনসংখ্যা ও যাতায়াতের চাহিদা বাড়ছে। এ অবস্থায় সমন্বিত গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ এবং সড়কের সীমিত প্রস্থের কারণে যেসব এলাকায় ভারী মেট্রোরেল নির্মাণে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেসব এলাকায় মনোরেল সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে।
মনোরেল সাধারণত উড়ালপথে পরিচালিত হয়। ফলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিদ্যমান সড়ক অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে সীমিত ভূমি ব্যবহার করে গণপরিবহন সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর নির্মাণ ও পরিচালন ব্যয়, যাত্রী ধারণক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা সমীক্ষায় যাচাই করা হবে।
সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ঢাকার গণপরিবহন পরিকল্পনা, সম্ভাব্য মনোরেল করিডোর নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা পাওয়া যাবে বলে আশা করছে ডিটিসিএ।