হোম > সারা দেশ > ঢাকা

ধানমন্ডি লেকে সেতুর নিচে লাশ, ৯৯৯-এ কল পেয়ে উদ্ধার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ধানমন্ডি লেকে ভাসমান অবস্থায় জাবেদ আহমেদ (৫১) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সকালে জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে ১০ নম্বর সড়কের একটি হোটেলের পেছনে সেতুর নিচ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম আব্দুল গফুর।

পুলিশ জানায়, জাবেদের স্থায়ী ঠিকানা বনানী। তবে তিনি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায় থাকতেন। তাঁর বাবার নাম সালাউদ্দিন আহামেদ। এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা জাবেদ।

জানা যায়, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে গত রোববার সন্ধ্যায় ধানমন্ডি যাবেন বলে বেরিয়েছিলেন জাবেদ আহমেদ। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পুলিশ তাঁর সর্বশেষ অবস্থান পেয়েছিল কলাবাগানে।

ধানমন্ডি থানার পুলিশ বলছে, আজ ভোরের দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে একজন কলার জানান—ধানমন্ডি লেকে এক ব্যক্তির লাশ ভাসছে। পরে ওই কলারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ধানমন্ডির ১০ নম্বর সড়কের একটি হোটেলের পেছনের সেতুর নিচ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। তাঁর কাছে মানিব্যাগ, মোবাইল ফোন ও জাতীয় পরিচয়পত্র ছিল।

এনআইডির মাধ্যমে তাঁর নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে সিম অন্য ফোনে লাগানোর পরে একাধিক ফোনকলের মেসেজের ওই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাঁর স্ত্রীকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তাঁর স্বামীর লাশ শনাক্ত করেন।

ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম আব্দুল গফুর আজকের পত্রিকাকে জানান, তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে জানা গেছে, জাবেদ আহমেদ একজন মার্কেটিং কনসালট্যান্ট ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চাকরিহীন ছিলেন। অনেক বন্ধুর কাছে তিনি নানা সহযোগিতা ও চাকরি চেয়ে পাননি।

এসআই জানান, চাকরি না পেলে তাঁর আর কিছু করার থাকবে না—এ ধরনের একটি মেসেজও তাঁর ফোনে দেখা গেছে। আর্থিক অভাব-অনটনের কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার কারণে স্ট্রোক বা আত্মহত্যা করতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

এসআই আব্দুল গফুর বলেন, ‘আমরা শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাইনি। তারপরেও মরদেহ ময়নাতদন্ত করতে দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার সেই অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’