আশুলিয়ায় শ্বাসরোধে বিথী আক্তার নামে এক নারীকে (২২) শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তাঁর স্বামী মো. মজনু রাজাকে (৩৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা জেলা পিবিআই এ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।
পিবিআই জানায়, গত ১২ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া রূপায়ণ মাঠসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় বিথীকে হত্যা করা হয়। পরদিন ১৩ আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ওই বাসার একটি কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাঁর গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল।
এ ঘটনায় বিথীর বাবা বাদশা মিয়া বাদী হয়ে মজনু রাজাকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ আগস্ট সংস্থাটির ঢাকা জেলা ইউনিট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব নেয়। এরপর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রংপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে মজনু রাজা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছেন বলে তথ্য পায় পিবিআই। পরে গত ৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট থানার খাসপাড়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত ও আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, বিথী আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তাঁর স্বামী মজনু গাজীপুরের কাশিমপুরের শৈলডুবি এলাকার একটি অটোগ্যারেজে মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় চার বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর তাঁরা আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় বিথীর মা-বাবার বাসার পাশে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ত্রীর কর্মস্থলের সহকর্মীদের সঙ্গে চলাফেরা ও মোবাইল ফোনে কথা বলা নিয়ে মজনুর সন্দেহ ছিল। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ হতো। ঘটনার দিন রাত ১১টার দিকে গ্যারেজের কাজ শেষে বাসায় ফেরেন মজনু। স্ত্রীর পরকীয়ায় জড়িত থাকার সন্দেহ থেকে তাঁদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে তিনি বিথীকে ধাক্কা দিয়ে খাটে ফেলে দেন। পরে খাটে থাকা গামছা তাঁর গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে পিবিআই জানিয়েছে। এরপর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যান তিনি।
পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ বলেন, ঘটনার পর থেকেই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ছায়া তদন্ত চালানো হয়। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।