দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে জামিন দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ তাঁকে জামিন দিয়েছেন।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মৃত মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরে বাংলা নগর থানায় একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, গত জুনে গাজী নজরুলের সঙ্গে ভুক্তভোগীর ইসলামি শরীয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। তিনি সংসদ সদস্য হওয়ায় ভুক্তভোগী মরিয়ম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকসুদা ইসলামসহ শেরেবাংলা নগর থানার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকার সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন। আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে ভুক্তভোগী মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী ভুক্তভোগী মরিয়মকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে বিভিন্ন সময় মোবাইলে তাঁর পরিবারকে জানায়। এর ধারাবাহিকতায় ২০ সেপ্টেম্বর আনুমানিক বিকেল সাড়ে ৫টায় গাজী নজরুল ভুক্তভোগীর বাবাকে মোবাইল ফোনে দ্রুত তাঁদের বাসায় যেতে বলেন। বাসায় গিয়ে দেখতে পান অনেক লোকজন সেখানে উপস্থিত।
তখন তিনি জানতে পারেন বাসার ভেতরের কক্ষে মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। শেরেবাংলা নগর পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এ দৃশ্য দেখতে পান। এ সময় বিছানার ওপরে তাঁর লেখা একটি সুইসাইড নোট পান। আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় তাঁর মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
যেদিন মরিয়ম আত্মহত্যা করেন সেদিনই গাজী নজরুলের সঙ্গে তাঁর প্রথম স্ত্রীকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরদিন তাঁদের কারাগারে পাঠিয়ে কাজী নজরুলকে ৪ দিন ও তাঁর স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। মাকসুদা ইসলামকে ২২ সেপ্টেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।