ফসলি জমিতে হাত না দিয়ে চরাঞ্চল, উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকা ও অনাবাদি জমিতে তুলা চাষ সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। কৃষি ও তুলা গবেষণায় সরকারের অর্থায়নে কোনো ঘাটতি হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। উন্নয়নমূলক কাজের জন্য মন্ত্রণালয়ে বর্তমানে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি তহবিল প্রস্তুত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
আজ বুধবার রাজধানীর ফার্মগেটের তুলা ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত তুলা দিবসের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।
দেশে তুলা চাষের ইতিহাস স্মরণ করে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ১৯৮০ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই প্রথম দেশে শক্তিশালীভাবে তুলা উন্নয়নের গোড়াপত্তন করেছিলেন।
খাদ্যনিরাপত্তা ও জমি ব্যবহারের অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জমি সীমিত। খাদ্যশস্য উৎপাদনে যেন ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ধান, গম বা ভুট্টার জন্য ব্যবহৃত প্রধান কৃষিজমিতে তুলা চাষ করা যাবে না। তার বদলে চরাঞ্চল ও উপকূলীয় লবণাক্ত জমিতে তুলা ফসল সম্প্রসারণ করতে হবে। কারণ, আমাদের বিপুল পরিমাণে তুলা আমদানি করতে হচ্ছে।’
নিজের রপ্তানি অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘আমি ১৯৭৩-৭৪ সাল থেকে হস্তশিল্প রপ্তানির সঙ্গে জড়িত এবং বিশ্ববাজার সম্পর্কে আমার ভালো ধারণা রয়েছে। বিশ্ববাজারে ‘ভেজিটেবল ডাই’ বা ‘নো কেমিক্যাল’ ট্যাগ দিয়ে দ্বিগুণ দামে শিশুদের পোশাক বিক্রি হয়।’
প্রাকৃতিক রঙিন তুলাকে ‘কেমিক্যাল-ফ্রি কটন’ হিসেবে ঘোষণা করে শিশুদের পোশাক তৈরি ও রপ্তানি করা গেলে বাংলাদেশ তুলা খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। রঙিন তুলার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা সরেজমিনে যাচাই ও গবেষণার জন্য সুতা কলের মালিক এবং তুলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ লাখ বেল তুলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে একটি স্বচ্ছ ও নিখুঁত মহাপরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন কৃষিমন্ত্রী।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘কোন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, গ্রাম বা কত নম্বর প্লটে কোন কৃষক কতটুকু জমিতে তুলা চাষ করছেন, তার বিস্তারিত ও নিখুঁত তথ্যভান্ডার মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। চাষিদের তালিকা স্বচ্ছ হলে অর্থায়নের কোনো অভাব হবে না। কত বছরে কতটুকু উৎপাদন বাড়বে, তার স্পষ্ট রূপরেখা নিয়ে আসুন, মন্ত্রণালয় তা বাস্তবায়নে প্রস্তুত।’
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সাথী ফসলের ধারণার প্রশংসা করেন কৃষিমন্ত্রী। তুলার সঙ্গে হলুদ চাষকে সাথী ফসলের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় অনুষ্ঠানে। সব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বানও জানান তিনি।
দেশের কল্যাণ ও আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলাই প্রতিটি পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন কৃষিমন্ত্রী। কৃষিপণ্য রপ্তানির মাধ্যমেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল আমিন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম এবং তুলা উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক কুতুব উদ্দীন।