রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার একটি বাসা থেকে মুহাম্মদ শাহবাজ (২৬) নামের এক পাকিস্তানি নাগরিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিনের বেকারত্ব ও বিদেশে পাঠানোর কথা বলে টাকা নিয়েও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাঠাতে না পারা এবং স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের কারণে তিনি হতাশায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে এসব কারণে তাঁর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আজ মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ বনশ্রীর একটি ১০ তলা ভবনের নিচতলার একটি কক্ষের দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সকাল ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জুবায়ের জানান, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করে। এ সময় তাঁর গলায় চাদর পেঁচানো ছিল এবং তিনি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিলেন। পরে তাঁকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, নিহত শাহবাজের বাড়ি পাকিস্তানের মুলতান জেলার জামালপুরে। তাঁর বাবার নাম নাজির আহমেদ। তিনি পরিবারের সঙ্গে দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় বসবাস করতেন।
খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, দীর্ঘদিনের হতাশা থেকে শাহবাজ আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে টাকা নিয়েছিলেন। তবে তাঁদের বিদেশে পাঠাতে পারেননি। এ সংক্রান্ত কয়েকটি স্ট্যাম্পও উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে নগদ টাকা নেওয়ার তথ্য রয়েছে।
ওসি আরও বলেন, শাহাবাজের কোনো কর্মসংস্থান ছিল না। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বেকার ছিলেন। একদিকে বাসাভাড়ার চাপ, অন্যদিকে টাকা নিয়েও লোকজনকে বিদেশে পাঠাতে না পারার বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল তাঁর। এর মধ্যেই স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ায় তিনি আরও হতাশায় ভুগছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি পাসপোর্ট ও তাঁর স্ত্রীর বিবাহবিচ্ছেদের কাগজপত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এসআই জুবায়ের জানান, নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পারিবারিক কলহের বিষয়েও তথ্য পেয়েছে পুলিশ। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।