সানজি গ্রুপ অব কোম্পানিজের ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির অর্থ ও হিসাব বিভাগের সহকারী মহাব্যবস্থাপক পার্থ সারথী হালদারকে (৪৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার পশ্চিম রাজাবাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করে সিআইডি।
সিআইডির ভাষ্য, পার্থ সারথী হালদারসহ কয়েকজন পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন কৌশলে প্রতিষ্ঠানটির অর্থ আত্মসাৎ করেন। কোম্পানির মালিকের স্বাক্ষরযুক্ত খালি চেকে প্রাপকের নাম পরিবর্তন করে ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে টাকা স্থানান্তর, গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ নিয়ে প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা না দেওয়া এবং ব্যাংক ট্রান্সফার ও আরটিজিএসের মাধ্যমে ব্যক্তিগত হিসাবে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যারে ভুয়া খতিয়ান তৈরি করে গ্রাহকদের অর্থ জমা দেখানো হলেও ব্যাংক বিবরণী ও পার্টি লেজার পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্ট অর্থ কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে জমা না হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় সানজি গ্রুপের পক্ষ থেকে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ভাটারা থানায় মামলা করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৮,৪২০, ৪৬৮,৫০৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
সিআইডির তদন্তে বলা হয়েছে, পার্থ সারথী হালদার বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ নিজের ব্র্যাক ব্যাংকের হিসাবে জমা ও স্থানান্তরের মাধ্যমে ২ কোটি ২৭ লাখ ২২ হাজার ৮৯৭ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া নগদ অর্থের হিসাব সমন্বয়, সফটওয়্যারে ভুয়া খতিয়ান তৈরি এবং এনআরবিসি ব্যাংকের দুটি হিসাব ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে। সানজি গ্রুপের আরেক প্রতিষ্ঠান পানামা সিএনজি কনভারশন থেকেও একই কৌশলে ৬৫ লাখ ৭ হাজার ৯৫০ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, পার্থ সারথী হালদার এককভাবে বিভিন্ন সময়ে চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৯ কোটি ৫৩ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৯ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগসাজশে গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও খালি চেক সংগ্রহ করে পরে চেকে নিজেদের পছন্দমতো প্রাপকের নাম বসিয়ে অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করা হয়। এভাবে মোট ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।
সিআইডি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পার্থ সারথী হালদার অপরাধে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। মামলাটির তদন্ত চলছে। অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং অর্থ লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটনে আইনগত কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শান্তিনগর মোড় এলাকা থেকে এ মামলায় সাইফুল ইসলাম ওরফে জনি (৩৭) এবং সৈয়দ আরব আলীকে (৫২) গ্রেপ্তার করে সিআইডি।