বিশেষভাবে তৈরি লোহার চাবি দিয়ে মাত্র ১০ সেকেন্ডে মোটরসাইকেলের লক খুলে চুরি করত একটি চক্র। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতেন চক্রের সদস্যরা।
এই চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) লালবাগ। তাঁদের কাছ থেকে লক ভাঙার দুটি বিশেষ চাবি ও চুরি হওয়া মোটরসাইকেলসহ মোট নয়টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাশেদুল ইসলাম ওরফে রফিক ওরফে রাসেল (৩০), মো. আমির ফয়সাল ওরফে রাব্বি (৩০), ফয়সাল (২৫), সৌরভ (২২), জাহাঙ্গীর আলম পাপ্পু (২৯) ও মোজাম্মেল হক মাসুম (২২)।
আজ রোববার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
শফিকুল ইসলাম বলেন, ২ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডে বাইতুর রহমান মসজিদের সামনে মোটরসাইকেল রেখে আসরের নামাজ পড়তে যান এক ব্যক্তি। এ সুযোগে চক্রের সদস্যরা বিশেষভাবে তৈরি লোহার চাবি দিয়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মোটরসাইকেলটির লক খুলে সেটি নিয়ে পালিয়ে যান।
মোটরসাইকেল চুরির এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ডিবির নজরে আসে। পরে ডিবি লালবাগ বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ দল ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে। এরপর সবুজবাগের নন্দীপাড়া ও মাদারটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে লক খোলার দুটি বিশেষ চাবি ও একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ীর সাদ্দাম মার্কেটের সামনে থেকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আমির ফয়সাল ওরফে রাব্বিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লার লাকসাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ ফয়সাল ও সৌরভকে গ্রেপ্তার করা হয়। নোয়াখালীর চাটখিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিনটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ জাহাঙ্গীর আলম পাপ্পু ও মোজাম্মেল হক মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় মোটরসাইকেল চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল ও রাব্বি জানিয়েছেন, তাঁরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে একই কৌশলে মোটরসাইকেল চুরি করতেন। পরে চুরি করা মোটরসাইকেল কুমিল্লার লাকসামে ফয়সাল ও সৌরভ এবং নোয়াখালীর চাটখিলে পাপ্পু ও মাসুমের কাছে সরবরাহ করতেন।
ডিবি সূত্র জানায়, রাসেলের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরির ১৫টি মামলা রয়েছে। আমির ফয়সাল ওরফে রাব্বির বিরুদ্ধে রয়েছে সাতটি চুরির মামলা। এ ছাড়া রাসেলের বিরুদ্ধে একটি জিআর সাজা পরোয়ানা এবং রাব্বির বিরুদ্ধে দুটি জিআর পরোয়ানা রয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।