কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের ছবি তৈরি করতেন তোফায়েল আলম টিটু (৩৫)। সেই পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতালিপ্রবাসী এক তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। নারীকণ্ঠে ফোনেও কথা বলতেন। পরে বিভিন্ন কৌশলে ওই তরুণ ও তাঁর পরিবারের কাছ থেকে প্রায় সাত লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এই অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ঢাকা জেলা।
২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার দারুস সালাম এলাকা থেকে টিটুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের সিমসহ তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।
পিবিআই জানায়, কেরানীগঞ্জের বারিশুর বাঘবাড়ি এলাকার শাহনাজ বেগমের (৪৬) ইতালিপ্রবাসী ছেলে শাহাদাত খান (২২)। ‘লেডি সোলজার/নারী যোদ্ধা’ নামে একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে শাহাদাতের সঙ্গে টিটুর পরিচয় হয়। ওই পেজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের পোশাক পরা ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা হতো।
পরে নারী সেনা সদস্যের পরিচয় দিয়ে ও নারীকণ্ঠে ফোনে কথা বলে শাহাদাতের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন টিটু। একপর্যায়ে বিভিন্ন কৌশলে শাহাদাত ও তাঁর পরিবারের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রায় সাত লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে শাহাদাত ও তাঁর মা বিষয়টি প্রতারণা বলে বুঝতে পারেন।
এ ঘটনায় প্রথমে কেরানীগঞ্জে মামলা করেন বাদী। তদন্তকালে পিবিআই বিকাশ ও নগদের লেনদেনের তথ্যসহ বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করে। পরে ১০ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ১৩ সেপ্টেম্বর পিবিআই ঢাকা জেলা মামলাটি স্বউদ্যোগে তদন্তের জন্য নেয়।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) মো. মনজুর রহমান তথ্য ও বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণ করে আসামির সংশ্লিষ্টতা শনাক্ত করেন। পরে ২০ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ৩টার দিকে দারুস সালাম এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই আরও জানায়, টিটু নারীকণ্ঠে কথা বলতে পারেন। শাহাদাতের সঙ্গে ফেসবুক মেসেঞ্জারে পরিচয়ের পর ইমোতে নারীকণ্ঠে কথা বলতেন তিনি। শাহাদাতের মায়ের কাছে নিজের মায়ের অসুস্থতার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে টাকা নেওয়া হয়।
২১ সেপ্টেম্বর আদালত টিটুর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিসিপিআর যাচাইয়ে টিটুর বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ আদালতে সিআর মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই মামলার তদন্ত শেষে তাঁর বিরুদ্ধে আদালত ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছেন বলেও জানিয়েছে পিবিআই। প্রতারণার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না ও আত্মসাৎ করা অর্থের বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।