রাজধানীর উত্তরায় গৃহকর্মীর ছদ্মবেশে বাসায় ঢুকে চেতনানাশক খাইয়ে বৃদ্ধা গৃহকর্ত্রীকে হত্যা এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুটের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর পশ্চিম আগারগাঁওয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগরের (উত্তর) অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন—বিলকিস বেগম (৪০) এবং চোরাই স্বর্ণের ক্রেতা জুয়েলারি দোকান মালিক রবিউল আউয়াল (৫৩)।
পিবিআই জানায়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘মমতাজ’ ও ‘মারুফা’ ছদ্মনামে মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে উত্তরা পশ্চিম থানার একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নেন বিলকিস। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পরে দেবেন বলে জানালেও তা আর দেননি। ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে বাসায় শুধু বৃদ্ধ দম্পতি—আয়শা আক্তার ও আনোয়ার হোসেন (৬৮)—থাকার সুযোগে পানির সঙ্গে ১০টি চেতনানাশক বড়ি মিশিয়ে তাঁদের খাইয়ে দেন।
অ্যাডিশনাল ডিআইজি মান্নান বলেন, ‘অতিরিক্ত মাত্রায় চেতনানাশক প্রয়োগের ফলেই আয়শা আক্তারের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি।’ আনোয়ার হোসেন বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
পরিবারের সদস্যরা বাসায় ফিরে ঘর এলোমেলো দেখেন, কিন্তু গৃহকর্মীকে পাননি। বাসা থেকে প্রায় ১১ ভরির বেশি স্বর্ণালংকার ও আলমারি থেকে নগদ ১ লাখ টাকা খোয়া যায়। পাশের বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটে ওই নারী বাসায় প্রবেশ করেন এবং দুপুর আড়াইটার দিকে একটি পলিথিন ব্যাগ হাতে বেরিয়ে যান।
পুলিশ জানায়, বিভিন্ন থানার পুরোনো মামলা থেকে বিলকিসের ছবি সংগ্রহ করে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দেখানো হলে তাঁরা তাঁকে শনাক্ত করেন। পরে পিবিআইয়ের একাধিক দল গাজীপুরের চৌরাস্তা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই-এর অ্যাডিশনাল ডিআইজি আরও বলেন, বিলকিস পেশাদার অপরাধী। তিনি বিভিন্ন ছদ্মনামে ঢাকার একাধিক এলাকায় একই কৌশলে চুরি করে আসছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে খিলক্ষেত, শেরেবাংলা নগর, ভাটারা ও হাতিরঝিল থানায় মামলা রয়েছে।
চোরাই স্বর্ণ কেনার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া রবিউল আউয়াল বিলকিসের কাছ থেকে স্বর্ণ কেনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। বিলকিসের কাছ থেকে নগদ ৬ হাজার ৩০০ টাকা ও ওষুধের খালি পাতা উদ্ধার করা হয়েছে।
গৃহকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এনআইডি যাচাই, ছবি সংরক্ষণ ও স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মান্নান বলেন, ‘সতর্কতা অবলম্বন করলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।’