হোম > সারা দেশ > ঢাকা

‘একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ’-এর আত্মপ্রকাশ: একাত্তর-চব্বিশ মুখোমুখি না করার দাবি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

জাতীয় প্রেস ক্লাবে শনিবার বিকেলে ‘একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ’ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন। ছবি: আজকের পত্রিকা

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে মহান মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা বন্ধের দাবি জানিয়েছে ‘একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ’। আজ শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হায়দার।

লিখিত বক্তব্যে গোলাম হায়দার বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ। এটি বাঙালি জাতির অহংকার, গৌরব, মর্যাদা ও সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত পেয়েছে। এর জন্য অগণিত মানুষকে তাজা রক্ত ও সীমাহীন ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হায়দার বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অস্তিত্ব, মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মর্যাদা বাংলাদেশের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় জীবনে চির অমলিন থাকা উচিত।

সংগঠনটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হায়দার বলেন, ২০২৪ সালের ঘটনাবলিকে মহান মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি না দাঁড় করিয়ে দায়িত্বশীল আলোচনা, ঐতিহাসিকতার সঠিক মূল্যায়ন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ও অধিকার সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি।

গোলাম হায়দার আরও বলেন, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সরকার ক্ষমতায় এলেও সুশাসন, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, সামাজিক সমতা ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের পরিবর্তে অনেক সরকার নিজেদের ক্ষমতা সুসংহত করতে ব্যস্ত ছিল। জনগণের জবাবদিহি নিশ্চিত হলেও নিজেদের জবাবদিহি এড়িয়ে গেছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধারা এমন বাংলাদেশের জন্য যুদ্ধ করেননি উল্লেখ করে গোলাম হায়দার বলেন, তাঁরা একটি অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে যুদ্ধ করেছিলেন, যেখানে জনগণ রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান, তাঁদের ওপর নির্যাতন এবং প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার মতো ঘটনা ঘটছে। মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদান শুধু আনুষ্ঠানিক সম্মানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। তাঁদের সামাজিক মর্যাদা, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অস্তিত্ব, মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় কাজ করবে। একই সঙ্গে সুশাসন, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং নাগরিকদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করবে।