হোম > সারা দেশ > ঢাকা

১৬ বছরের পাওনা দাবি: বিটিআরসির সামনে জিপির সাবেক কর্মীদের মানববন্ধন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত

১৬ বছরের পাওনা নিষ্পত্তির দাবিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) সামনে মানববন্ধন করেছেন গ্রামীণফোন লিমিটেডের সাবেক শ্রমিকেরা। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সাবেক কর্মীরা তাঁদের দীর্ঘদিনের পাওনা দ্রুত নিষ্পত্তি, দাবির বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কার্যকর আলোচনার দাবি জানান।

সাবেক কর্মী খালিদ হাসান বলেন, ১৬ বছরেও আমাদের পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। ২০১০-১২ সাল থেকে একেকজনের পাওনার পরিমাণ ৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। আমরা বুঝি যে গ্রামীণফোন এটা দিতে পারবে না। তাই আমরা ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে ভ্যাট ট্যাক্স বাদ দিয়ে ১০ কোটি টাকা চাচ্ছি। এটাই আমাদের মূল দাবি।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০১০–২০১২ সালের ডব্লিউপিপিএফ (শ্রমিক মুনাফা অংশীদারত্ব তহবিল) ও ডব্লিউডব্লিউএফ (শ্রমিক কল্যাণ তহবিল) এর মূল পাওনা পরবর্তী সময়ে পরিশোধ করা হলেও দীর্ঘ সময় অর্থ আটকে থাকার কারণে তাঁদের প্রাপ্য ৫ শতাংশ বিলম্বজনিত আইনগত পাওনা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। তাঁদের ভাষ্য, প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন মানুষ এই পাওনা-সংক্রান্ত বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন শ্রম আদালতে পৃথক মামলা করেছেন। আর সংগঠনের সঙ্গে লিখিত সম্মতির মাধ্যমে বর্তমানে প্রায় ৭৫০ জন সাবেক কর্মী যুক্ত রয়েছেন।

গ্রামীণফোন একাধিকবার বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিষয়টি আদালতে নিষ্পত্তি হবে। অন্যদিকে সাবেক কর্মীদের অভিযোগ, পাওনা পরিশোধ না করে হামলা-মামলা করে তাদের দমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সাবেক কর্মী ফজলুল করিম প্রিন্স বলেন, গ্রামীণফোন অসত্য বিবৃতি দিচ্ছে। তারা গত ফেব্রুয়ারিতে আমাদের ১১ জনকে অ্যারেস্ট করিয়েছিল। গত জুনে রাত দুইটায় আমাকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমাদের পরিবার এখনো ট্রমার মধ্যে দিন পার করছে।

সাবেক কর্মীরা জানান, ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে তাঁরা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তাঁদের দাবির কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরছেন। তাঁদের দাবি, ১৬ বছর ধরে অনিষ্পন্ন থাকা বিষয়টির আইনসম্মত, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কার্যকর আলোচনায় বসতে হবে। বিটিআরসি, গ্রামীণফোন এবং সাবেক কর্মীদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কার্যকর আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা। আইন অনুযায়ী প্রকৃত পাওনা নির্ধারণে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হিসাব যাচাই এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র পর্যালোচনার ব্যবস্থারও দাবি জানান তারা।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের এই বিষয়টি আর অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখে দেওয়া উচিত নয়। তাঁরা কোনো সংঘাত চান না, আলোচনার মাধ্যমে আইনসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সমাধান চান। ‘গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’ মনে করে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সদিচ্ছা, স্বচ্ছ আলোচনা এবং আইনগত কাঠামোর মধ্যে বাস্তবসম্মত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হলে দীর্ঘদিনের এই সমস্যার একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ তৈরি করা সম্ভব।