হোম > সারা দেশ > ঢাকা

সরকারি গোপন আইনের মামলায় গ্রেপ্তার রবিউল ফের ৩ দিনের রিমান্ডে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

সরকারি গোপন আইনে (অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট) করা মামলায় ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ এ আদেশ দেন।

তিন দফা রিমান্ডে নেওয়ার পর আজ বিকেলে রবিউলকে আদালতে হাজির করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মো. নুর আলম সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

১৯২৩ সালের সরকারি গোপন আইনে দায়ের করা মামলায় রবিউলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত ১ অক্টোবর সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

এর আগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তারের পর রবিউলকে গত ২৩ সেপ্টেম্বর চার দিন এবং ২৭ সেপ্টেম্বর চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

গত ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত তিনটার দিকে ঢাকার উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর থেকে রবিউলকে আটক করে পুলিশ। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়।

৫৪ ধারার অভিযোগে পুলিশ বলেছিল, রবিউল গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন এবং তাঁর গতিবিধি সন্দেহজনক ছিল। পাসপোর্ট দেখিয়ে তিনি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করেন। পরে তাঁর ভারতীয় পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রবিউলের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্মতারিখের সঙ্গে পাসপোর্টের জন্মতারিখের মিল নেই। তিনি এর আগে অনেকবার বাংলাদেশ ভ্রমণ করলেও সুনির্দিষ্ট কারণ তুলে ধরতে পারেননি। পুলিশ আরও বলেছিল, দেশে কোনো ধর্তব্য অপরাধে তাঁর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে এবং ঢাকা শহরসহ সারা দেশে নাশকতায় তাঁর সম্পৃক্ততার সন্দেহ রয়েছে।

৫৪ ধারায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, রবিউল ভারতীয় নাগরিক হয়েও বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে যাতায়াত করেছেন এবং দেশের স্বার্থবিরোধী কাজে নিয়োজিত ছিলেন। পুলিশের অভিযোগ, তিনি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্য দেশের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাচার করতেন। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি গোপন আইনে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত ১ অক্টোবর ডিবির রমনা বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ দলের পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, রবিউল ইসলামের বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার গৌড়িভোজ গ্রামে। তাঁর বাবার নাম শহীদুল ইসলাম। তিনি ভারতীয় নাগরিক দাবি করলেও তাঁর পাসপোর্টে জন্মস্থান হিসেবে সৌদি আরবের রিয়াদ উল্লেখ আছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, দুই দফা রিমান্ডে নিয়ে তাঁকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জব্দ করা পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স পর্যালোচনায় জন্মতারিখে গরমিল পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করা হয়।

পুলিশের অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল স্বীকার করেছেন যে, প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে তিনি একাধিকবার বাংলাদেশে যাতায়াত করেছেন। কখনো পর্যটক ভিসায়, কখনো ব্যবসায়িক ভিসায় তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। বেশির ভাগ সময় পর্যটক ভিসায় দেশে প্রবেশ করে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের আড়ালে গুপ্তচরবৃত্তি এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করেছেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে রবিউল ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অবস্থান করেন। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থ পরিপন্থী কাজে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও নিষিদ্ধ এলাকার ছবি এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি বা তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।