যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
আজ শনিবার বেলা ১২টার দিকে মিরপুর বাঙলা কলেজের সামনে, মতিঝিলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ের সামনে, আসাদগেটের আড়ং মোড় ও নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেন তাঁরা। এ সময় এসব এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা জানিয়েছেন, শনিবার সকাল ১১টায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ১১তম গ্রেডের ২৪২টি পদের বিপরীতে তিন লাখের বেশি প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। পরীক্ষা আয়োজনের জন্য ঢাকার প্রায় ১০০টি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছিল।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষার আগের রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তোলা হয়। ওই পোস্টে দাবি করা হয়, নিয়োগ পরীক্ষা কমিটির দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত। এক আত্মীয়ের সহযোগিতায় প্রার্থীদের সঙ্গে জনপ্রতি গড়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকার চুক্তি করে প্রশ্নপত্র সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলেও পোস্টে অভিযোগ করা হয়।
এ অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরে শনিবার সকালে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।
পরীক্ষা স্থগিতের খবরের মধ্যে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করেন চাকরিপ্রার্থীরা। বেলা ১২টার দিকে টেকনিক্যাল মোড়সংলগ্ন মিরপুর বাঙলা কলেজের সামনে সড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। প্রায় একই সময়ে মতিঝিলে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ের সামনেও বিক্ষোভ শুরু হয়। এ ছাড়া আসাদগেটের আড়ং মোড় ও নীলক্ষেত মোড়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন আন্দোলনকারীরা।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-৫) মো. মাজহারুল হক বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পরীক্ষায় স্থগিত করার সিদ্ধান্ত হয় কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন পরীক্ষার সময়সূচি জানানো হবে।
এদিকে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের কারণে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও সিআইডি জড়িত চক্রকে আটক করতে গতকাল শুক্রবার রাত থেকে কাজ করছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, রাজধানীতে কোনো অপরাধ সংগঠিত হলে সেটির ছায়াতদন্ত করে ডিবি। প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার পরও ডিএমপির সাইবার ইউনিট ও ডিবির কয়েকটি দল বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।