সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ‘দলীয়করণ’ এবং ‘পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত’ করার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় নেতা-কর্মীরা ‘বন্ধু কোটায় মন্ত্রী, কর্মী কোটায় চাকরি’, ‘নো মোর পলিটিক্যাল ফেভার ইন দ্য জব সেক্টর’, ‘নিয়োগে নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত কর’ ইত্যাদি লেখা প্লাকার্ড ও লালকার্ড প্রদর্শন করে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে দলীয়করণের প্রতিবাদ জানায়।
মানববন্ধনে ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক রাইয়ান ফেরদৌস বলেন, শেখ হাসিনা যখন চাকরিতে হাত দিয়েছিল, তখন এ দেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল। আপনারা যেভাবে বারবার সরকারি চাকরিতে হাত দিচ্ছেন, আমরা ভয় পাচ্ছি—আগামী এক বছরের ভেতরে হয়তো আবার আরেকটা জুলাই নেমে আসবে।
রাইয়ান ফেরদৌস বলেন, গত ১৭ বছর সমান সুযোগের জন্য লড়াই করে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি প্রথমেই এনটিআরসিএতে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তারা ভাইভায় ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত মার্ক বাড়ানোর ষড়যন্ত্র শুরু করেছে শুধুমাত্র নিজেদের দলীয় কর্মী নিয়োগের জন্য।
ছাত্রশক্তির এই নেতা আরও বলেন, ‘বিএনপি বলে, সবার আগে বাংলাদেশ। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, সবার আগে বিএনপি ছাড়া এখানে আর কিচ্ছু নাই। মন্ত্রীর ছেলেরা কোটি কোটি টাকার ঠিকাদারি ও প্রজেক্ট নিচ্ছে। অপরদিকে কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।’
ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখার সভাপতি হাসিব আল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত রাজনীতিকরণ বা দলীয়করণ—কোনোটাই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে চলবে না। তারেক রহমান ক্ষমতায় বসে প্রত্যেকটি জায়গায় নিজের দলের লোককে বসাচ্ছেন। যাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তাদের একমাত্র যোগ্যতা হলো তারা বিএনপির নেতা বা কর্মী। এভাবে কোনো দেশ চলতে পারে না।
পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে হাসিব বলেন, ‘ভেরিফিকেশনের নামে যোগ্য প্রার্থীদের যেভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে যোগ্যদের চাকরি বুঝিয়ে দিতে হবে। আপনারা যদি আমাদের দাবি না মানেন, আপনাদের ক্ষমতা থেকে কীভাবে নামাতে হয়, সেটা আমরা খুব ভালোভাবেই জানি।’