গতকাল রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা। উপজেলা সদরের সততা মেডিকেলে ভর্তি ছিলেন এক নারী। মাত্র দুই দিন আগে তিনি সন্তান প্রসব করেছেন। হঠাৎ রক্তশূন্যতা দেখা দেওয়ায় তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। রাত-বিরাতে এমন অবস্থায় জরুরি রক্ত যোগাড় করতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন রোগীর স্বজনেরাও।
এমন সময় দেবদূতের মতো আবির্ভাব এক চিকিৎসকের। তিনি স্বেচ্ছায় এক ব্যাগ বি-পজিটিভ রক্ত দিয়ে রোগীর জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসেন। ফলে বেঁচে যান মা সালমা আক্তার ও নবজাতক। বাস্তবের এই ‘রিয়েল হিরোর’ ঘটনা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগে না। নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছেন এখন চিকিৎসক কবির হোসেন।
সালমা আক্তার মুরাদনগর উপজেলার স্বাগতা গ্রামের মহসিন মিয়ার স্ত্রী। তিনি এক সপ্তাহ আগে সততা হাসপাতালে ভর্তি হন।
সততা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহাগ রানা সোহেল বলেন, সিজারিয়ান অপারেশনের দুই দিন পর একজন রোগীর হঠাৎ রক্তশূন্যতা দেখা দিলে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা কবির হোসেন স্যার মধ্যরাতে ছুটে এসে রক্ত দান করেছেন।
সোহাগ রানা সোহেল জানান, বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ আছেন।
কবির হোসেন বলেন, ‘আমি একজন চিকিৎসক। মানুষকে সেবা দেওয়াই আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য। রক্তদানও একটি সেবামূলক কাজ। তা ছাড়া, আমি তো প্রথমবার রক্ত দিইনি। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকাল থেকেই নিয়মিত রক্তদান করে আসছি। তাই খবরটি শোনার পর আর দেরি না করে ওই মা-কে বাঁচানোর চেষ্টা করেছি।’
কবির হোসেন আরও বলেন, ‘যে মেয়েটিকে আমি রক্ত দিয়েছি, তাকে দেখে মনে হলো ১৬-১৭ বছর বয়স হবে। দেখতে রুগ্ণ ও পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। অল্প বয়সে মা হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বাল্যবিয়ে থেকে আমাদের সরে আসতে হবে। এটি আমাদের সমাজের একটি বড় সমস্যা।’