হোম > সারা দেশ > কুমিল্লা

দেবিদ্বারে ফরিদা হত্যা: বিচারের দাবিতে থানার সামনে বিক্ষোভ

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

দেবিদ্বার থানার মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার দেবিদ্বারে আলোচিত ফরিদা ইয়াসমিন হত্যার প্রতিবাদ ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলা পরিষদ গেট থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দেবিদ্বার থানার মূল ফটকের সামনে কিছুক্ষণ অবস্থান নেয়। পরে মিছিলটি কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবিদ্বার নিউমার্কেটের স্বাধীনতা স্তম্ভের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, দেবিদ্বারের ইতিহাসে ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ড একটি বর্বরোচিত ও নৃশংস ঘটনা। তাঁদের অভিযোগ, গয়না ও টাকার লোভে বাসার ভাড়াটিয়া সেজে লাইলী আক্তার ও তাঁর সহযোগীরা ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে ১৪টি পলিব্যাগে ভরে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। বক্তারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

বক্তারা আরও বলেন, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অপরাধীরা অনেক সময় উপযুক্ত শাস্তি পায় না। তাঁদের দাবি, ২০২১ সালে সাত বছরের শিশু ফাহিমা হত্যার ঘটনায় লাইলী আক্তারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও কয়েক বছরের মধ্যে তারা জামিনে বেরিয়ে আসেন। ওই ঘটনায় যথাযথ শাস্তি হলে পরবর্তী সময়ে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটত না বলে দাবি করেন তারা।

নিহত ফরিদা ইয়াসমিনের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি সরকারের কাছে আমার স্ত্রীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি চাই। যেন ভবিষ্যতে অপরাধীদের জন্য এটি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।’

প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য দেন নিহত ব্যক্তির দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তার, কাজী নাসির, সিয়াম আহমেদ, মোশাররফ হোসেন, মো. জহিরুল ইসলাম, আলী আরশাদ বাবু ও নাজমুল ইসলামসহ অনেকে।

উল্লেখ্য, দেবিদ্বার পৌরসভার ছোট আলমপুর পূর্বাশা আবাসিক এলাকায় গত বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে ওই এলাকার মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন বাসা থেকে ফরিদা ইয়াসমিনের মরদেহের খণ্ডিত অংশের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ফরিদা হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুলিশের একাধিক দল তদন্তে কাজ করছে। আসামি লাইলী আক্তারকে তিন দিনের রিমান্ডে এনে স্বর্ণালংকার, কিছু টাকা ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। লাইলী আক্তার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।