কুমিল্লার হোমনা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দিনভর কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করে। হামলার বিচার ও মামলা দায়েরের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। হামলায় হিমেল, রায়হানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহত শিক্ষার্থী হিমেল বলেন, বহিরাগতরা অন্যায়ভাবে ক্যাম্পাসে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
এদিকে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে থানায় মামলা না করার অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
অবরুদ্ধ অবস্থায় বিক্ষোভকারীরা শিক্ষক মিলনায়তনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এতে প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা চরম ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষকেরা।
পরে খবর পেয়ে হোমনা পৌর বিএনপির সভাপতি ছানাউল্লাহ সরকারসহ স্থানীয় নেতারা কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে অবরুদ্ধ শিক্ষকদের উদ্ধার করেন।
ঘটনার বিষয়ে কলেজের দর্শন বিভাগের শিক্ষক মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকেই মূল ঘটনার সূত্রপাত। কলেজের একজন সাধারণ শিক্ষার্থী ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে বিরোধের জেরে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থী ও কয়েকজন বহিরাগত কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মারামারিতে জড়ান। এ ঘটনায় গত বুধবার কলেজে পুলিশও এসেছিল। তিনি বলেন, ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষকে বাদী হয়ে মামলা করার দাবিতে বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা শিক্ষক মিলনায়তনে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বন্ধ করে দেন। পরে পৌর বিএনপির সভাপতি ছানাউল্লাহ সরকারসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা এসে শিক্ষকদের মুক্ত করেন।
নাজমুল ইসলাম আরও জানান, পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হোমনা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকেরা দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ ছিলেন। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় তাঁরা মুক্ত হন। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বর্তমানে কলেজ ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।