হোম > সারা দেশ > কুমিল্লা

গ্রাহকের প্রায় অর্ধকোটি টাকা নিয়ে পিডিবিএফ কর্মী উধাও, অফিস ঘেরাও

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

টাকা ফেরতের দাবিতে অফিস ঘেরাও করেন গ্রাহকেরা। ইনসেটে মাঠকর্মী শাহজাহান। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার দেবিদ্বারে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের (পিডিবিএফ) মাঠকর্মী মো. শাহজাহান মিয়ার বিরুদ্ধে শতাধিক গ্রাহকের জমা ও এফডিআরের প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। টাকা ফেরতের দাবিতে বুধবার সংস্থাটির দেবিদ্বার কার্যালয় ঘেরাও করে অবস্থান নেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়কের এএসপি সার্কেল দেবিদ্বার কার্যালয়ের পাশে পিডিবিএফের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা জানান, পিডিবিএফের অধীনে বিভিন্ন গ্রামে সমিতি রয়েছে। এসব সমিতির সদস্যদের দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে সঞ্চয় সংগ্রহের মাধ্যমে ঋণ দেওয়া হয়। অধিকাংশ গ্রাহক ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে সঞ্চয় জমা দিয়ে ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ করে আসছেন। অনেকে এফডিআরের মাধ্যমেও সঞ্চয় জমিয়েছেন।

গ্রাহকদের অভিযোগ, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক গ্রাহককে এক থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় বা জামানত হিসেবে নেওয়া হয়। টাকা নেওয়ার পর ঋণ দেওয়ার কথা বলে তাঁদের দিনের পর দিন ঘোরানো হচ্ছিল। গ্রাহকদের সঙ্গে প্রায় আট বছর ধরে লেনদেন করা মাঠকর্মী শাহজাহান মিয়ার সঙ্গেই তাঁদের যোগাযোগ বেশি ছিল।

শিরিন আক্তার নামে এক গ্রাহক বলেন, ‘পিডিবিএফের মাঠকর্মী শাহজাহান আমাকে তিন লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলে জামানত হিসেবে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নেন। আমার পুরোনো বইয়ে ওই টাকার হিসাবও লিখে দেন। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হতে ফিল্ড অফিসার হৃদয় দাসকে বইটি দেখালে তিনিও হিসাব ঠিক আছে বলে জানান।’ তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল ম্যানেজারকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, পুরোনো বইয়ে হিসাব থাকবে না, বর্তমান বই দেখাতে হবে। ওই টাকা তাঁদের দপ্তরে জমা হয়নি বলেও জানান তিনি। এরপর শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে দেবিদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।’

অভিযোগের পর শাহজাহান আলী পালিয়ে যান বলে জানান শিরিন আক্তার। তিনি ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার সরাতো গ্রামের মো. লিয়াকত আলীর ছেলে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর আরও প্রায় অর্ধশত গ্রাহক পিডিবিএফের কার্যালয়ে এসে তাঁদের টাকা ফেরতের দাবি জানান।

একাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহক অভিযোগ করেন, ঋণের জমা টাকা, ব্যক্তিগত সঞ্চয় ও এফডিআরের টাকা মিলিয়ে শতাধিক গ্রাহক সংস্থাটিতে অর্ধকোটি টাকার বেশি জমা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, মাঠকর্মী শাহজাহান এসব টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন।

গ্রাহকদের অভিযোগ, টাকা ফেরতের বিষয়ে পিডিবিএফ কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে শাখা ব্যবস্থাপক উম্মে সুবাইদা তাঁদের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে শুনছেন না। বরং যাঁকে টাকা দিয়েছেন, তাঁর কাছে গিয়ে টাকা চাইতে এবং প্রয়োজনে মামলা করতে বলা হচ্ছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে গ্রাহকেরা তাঁদের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অভিযুক্ত মাঠকর্মী শাহজাহান আলীর ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে পিডিবিএফের দেবিদ্বার কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক পারভিন আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য সপ্তাহে দুই দিন এখানে অফিস করি। আপনারা আমাদের জেলার ডিডি স্যারের সঙ্গে কথা বলুন।’

পিডিবিএফের দেবিদ্বার শাখার ব্যবস্থাপক উম্মে সুবাইদা মুঠোফোনে বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমরা তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছি। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদন হেড অফিসে পাঠানো হবে।’

পিডিবিএফের কুমিল্লা রিজিয়নের উপপরিচালক (ডেপুটি ডিরেক্টর) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’