কুমিল্লায় আগামী ১৮ আগস্ট থেকে আরও কঠোর মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। মাদক ব্যবসা ও পাচারের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আগ্রহীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে মাদকবিরোধী র্যালি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাকারিয়া তাহের এসব কথা বলেন।
জাকারিয়া তাহের বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবন নষ্ট করে না, এর প্রভাব পরিবার ও সমাজের ওপরও পড়ে। মাদককে কেন্দ্র করে অপরাধ, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় বাড়ে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি মাদকবিরোধী আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে বলে বলেন।
কুমিল্লাকে মাদক পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে উল্লেখ করে জাকারিয়া তাহের বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক দেশে প্রবেশ করছে। পরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ বিভিন্ন পথে এসব মাদক দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে। মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুমিল্লায় কোনো মাদক কারবারিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জেলা পুলিশের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, পেশাজীবী, গণমাধ্যমকর্মী এবং সাধারণ মানুষকে মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে।
মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জেলার প্রতিটি থানায় তথ্য বক্স স্থাপনের কথাও জানান গৃহায়ণমন্ত্রী। এসব তথ্য বক্সে মাদক ব্যবসায়ী, পাচারকারী ও মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
মাদক ব্যবসা ছেড়ে যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে জানিয়ে জাকারিয়া তাহের বলেন, যারা মাদক ব্যবসা থেকে সরে এসে সমাজের মূলধারায় ফিরতে চান, তাদের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে কেউ মাদক ব্যবসা অব্যাহত রাখলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুমিল্লায় শুরু হওয়া মাদকবিরোধী কার্যক্রম কোনো একদিনের কর্মসূচি নয় বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এটি জেলার প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে ছড়িয়ে দিয়ে একটি ধারাবাহিক সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়া হবে। মাদকমুক্ত কুমিল্লা গড়ে তুলতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী, পেশাজীবী, যুবসমাজ ও সুশীল সমাজসহ সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’
মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু পুলিশের একার দায়িত্ব নয়, এটি পুরো সমাজের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন জাকারিয়া তাহের। কুমিল্লা জেলা পুলিশ এ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেবে এবং সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে বলেও জানান তিনি।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা ওয়াসার চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম এবং কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মুস্তাক মিয়া।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশ শেষে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র্যালি বের হয়। র্যালিটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় টাউন হল মাঠে এসে শেষ হয়।