কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের কল্পবাস মধ্যপাড়া এলাকার অটোরিকশাচালক হালিম মিয়া ও গৃহিণী স্বপ্না বেগমের ঘরে ছয় মাস আগে জন্ম নেয় নতুন অতিথি সাজিদ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সন্তান জন্ম নেওয়ায় পরিবারজুড়ে ছিল আনন্দ আর স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তার কালো ছায়া। মাত্র ছয় মাস বয়সী সাজিদ আক্রান্ত হয়েছে রেটিনোব্লাস্টোমা (চোখের ক্যানসার) রোগে।
এর আগে একই রোগে তাঁদের প্রথম সন্তান শান্তকে হারাতে হয়েছে। মাত্র তিন বছর বয়সে মৃত্যুর কাছে হার মানে সে। সেই শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই দ্বিতীয় সন্তান সাজিদের শরীরেও ধরা পড়েছে একই রোগ। ফলে সন্তানকে বাঁচাতে এখন মরিয়া হয়ে উঠেছেন মা-বাবা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাজিদের বয়স যখন তিন মাস, তখন তার চোখে অস্বাভাবিকতা লক্ষ করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, সে রেটিনোব্লাস্টোমায় আক্রান্ত। এর পর থেকে শুরু হয় তার চিকিৎসার দীর্ঘ লড়াই।
বর্তমানে চট্টগ্রাম চক্ষু চিকিৎসালয় ও প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সাজিদের চিকিৎসা চলছে। নিয়মিত কেমোথেরাপিসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে শিশুটির সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ।
ছেলেকে বাঁচাতে ইতিমধ্যে পরিবারের সব সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে ধারদেনাও করতে হয়েছে। অটোরিকশা চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালানো হালিম মিয়ার পক্ষে এখন আর চিকিৎসার খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।
সাজিদের মা স্বপ্না বেগম বলেন, ‘এক সন্তানকে চোখের সামনে একই রোগে হারিয়েছি। অনেক কষ্টে ও দীর্ঘ অপেক্ষার পর সাজিদ আমাদের ঘর আলো করে এসেছিল। কিন্তু তিন মাস বয়সেই জানতে পারি সেও চোখের ক্যানসারে আক্রান্ত। একজন মা হিসেবে এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ছেলেটাকে বাঁচানোর জন্য যা ছিল সব খরচ করেছি, ধারদেনাও করেছি। এখন আর চিকিৎসার ব্যয় চালাতে পারছি না।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবা হালিম মিয়া বলেন, ‘প্রথম সন্তানকেও একই রোগে হারিয়েছি। সেই কষ্ট এখনো ভুলতে পারিনি। ছেলেকে বাঁচানোর জন্য ধারদেনা করে ৪-৫ লাখ টাকা খরচ করেছি। এখন আর চিকিৎসার খরচ চালানোর সামর্থ্য নেই। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ যদি এগিয়ে আসে, তাহলে হয়তো আমার ছেলেটাকে বাঁচানো সম্ভব হবে।’
প্রতিবেশী আবু কালাম বলেন, ‘হালিম মিয়া অত্যন্ত দরিদ্র একজন মানুষ। অটোরিকশা চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালান। প্রথম সন্তানকে একই রোগে হারানোর পর পরিবারটি ভেঙে পড়েছিল। এখন দ্বিতীয় সন্তানও একই রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তারা অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে শিশুটির চিকিৎসা সহজ হবে।’
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শেখ হাসিবুর রেজা বলেন, ‘রেটিনোব্লাস্টোমা শিশুদের একটি বিরল কিন্তু মারাত্মক ক্যানসার। তবে সময়মতো শনাক্তকরণ ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে প্রায় ৯০ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। শিশুটির চিকিৎসায় সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
সাজিদের চিকিৎসার জন্য সহায়তা পাঠাতে আগ্রহীরা বিকাশ ও নগদ নম্বর ০১৮৬০১১৬৩৮২-এ যোগাযোগ করতে পারেন।
এক সন্তানের মৃত্যুর বেদনা বুকে নিয়ে আরেক সন্তানকে বাঁচানোর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন হালিম ও স্বপ্না দম্পতি। সমাজের সহানুভূতিশীল মানুষের সামান্য সহযোগিতাই হয়তো ফিরিয়ে দিতে পারে ছোট্ট সাজিদের জীবনের আলো।