হোম > সারা দেশ > কুমিল্লা

অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় মামলা করলেন বাবা, অবরোধ তুলে নিলেন শিক্ষার্থীরা

কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় মামলা করেছেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। হত্যাকাণ্ডের বিচার ও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারসহ চার দফা দাবিতে আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন তাঁরা। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মামলায় আসামিদের নাম অজ্ঞাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলাটি করেন।

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন কুবির শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার, পুলিশ সুপারের পদত্যাগসহ চার দফা দাবি জানান তাঁরা। পরে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন শিক্ষার্থীরা। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা ৪ দফা দাবি ঘোষণা করেন। দাবিগুলো হলো– অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ৬০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করে ফাঁসির রায় কার্যকর, কুমিল্লার পুলিশ সুপার, আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ থানার ওসিদের দায়িত্ব স্বীকার করে প্রত্যাহার, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি প্রতিষ্ঠা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় তাৎক্ষণিক রেসপন্স ইউনিট গঠন করা।

শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ। ছবি: আজকের পত্রিকা

এর আগে সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্বজন ও স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকায় অপ্রতিমের বাড়িতে যান।

সেখানে বেলা ১১টার দিকে দ্বিতীয় জানাজা শেষে অপ্রতিমকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থান নেন।

অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার একজন ব্যবসায়ী।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার নিজ বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ প্রত্যাহারের পর ফাঁকা রাস্তা। ছবি: আজকের পত্রিকা

নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধানে তল্লাশি চালান। নিখোঁজের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর গতকাল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছু ক্লু পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।