কুমিল্লার মেঘনা ও তিতাস উপজেলার সীমান্তবর্তী চরবিনোদনপুর এলাকায় চর দখলকে কেন্দ্র করে দুই উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। ১৯৯০ সালে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন মেঘনা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের ২৩টি দলিলের মাধ্যমে ১৪ দশমিক ৭৫ একর জমি লিজ দেয়। পরে ১৯৯৯ সালে তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের নতুন বাটেরা এলাকার বাসিন্দাদের আরও ১০ দশমিক ১৪ একর জমি লিজ দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর পর থেকে নতুন বাটেরা এলাকার লোকজন জমিগুলো ভোগদখল করে আসছিলেন। সম্প্রতি আলীপুর গ্রামের লোকজন তাঁদের দাবি করা জমির দখল নিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দেশীয় অস্ত্র, টেঁটা, হকিস্টিক, রামদা ও ইটপাটকেলের ব্যবহারে একপর্যায়ে তা ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে অনেকেই গুরুতর আহত হন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ফারুক, আনোয়ার হোসেন, রাজ্জাক, বাছির, জাহাঙ্গীর আলম, রবি মোল্লা, সাগর, সালাউদ্দিন, শাহজাহানসহ প্রায় ৩০ জন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, বিরোধপূর্ণ জমিটি বাটেরা মৌজার অন্তর্ভুক্ত। সিএস ও এসএ রেকর্ডে আলীপুর গ্রামের কয়েকজনের নাম থাকলেও বিএস রেকর্ডে জমিটি সরকারি খাসজমি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। রেকর্ডগত এই অস্পষ্টতাকে কেন্দ্র করে বছরের পর বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে মেঘনা উপজেলার পক্ষে নেতৃত্ব দেন কামরুজ্জামান, হাবিবুল্লাহ মেম্বার, শাহজাহান মেম্বার, রবিউল্লাহ ও জহির। অন্যদিকে তিতাস উপজেলার পক্ষে নেতৃত্ব দেন লিটন, শাহ আলম মেম্বার, ছাইদুল মেম্বার ও আবদুর রব।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সতর্ক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, চরাঞ্চলের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় প্রায়ই এমন সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। তাঁরা স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।