হোম > সারা দেশ > কুমিল্লা

শিশু শিক্ষার্থীকে হয়রানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে মারধর, পাল্টাপাল্টি মামলা

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

গত ২৬ জুলাই শিক্ষককে মারধরের পর দোকানে বেঁধে রাখা হয়। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার দেবিদ্বারে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় উপজেলার ব্রাহ্মণখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. খোরশেদ আলমকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার ব্রাহ্মণখাড়া বটতলা বাজার থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার খোরশেদ আলম ব্রাহ্মণখাড়া গ্রামের মৃত শব্দর আলীর ছেলে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দাদা বাদী হয়ে খোরশেদ আলমকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর আদালতে ভুক্তভোগী শিশুর ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই দুপুরে ব্রাহ্মণখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণির পাঠদান চলাকালে ওই ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ ওঠে শিক্ষক খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে। পরে ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি তার মাকে জানায়।

ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ওই দিন বিকেলে স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষককে স্কুল থেকে নিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সন্ধ্যার দিকে ব্রাহ্মণখাড়া বটতলা বাজারে দ্বিতীয় দফায় তাঁকে মারধর করে হাত বেঁধে একটি চায়ের দোকানে আটকে রাখা হয়। এ সময় ওই শিক্ষার্থীর স্বজনেরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে দেবিদ্বার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষক খোরশেদ আলমকে উদ্ধার করে। পরে তাঁকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অপর দিকে শিক্ষককে মারধর, হামলা ও টাকা লুটের অভিযোগে তাঁর ছেলে আরিফ বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। ওই মামলার আসামিরা ৯ আগস্ট আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।

শিক্ষককে মারধরের প্রতিবাদে উপজেলা শিক্ষক সমিতির নেতাদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও উপজেলা শিক্ষা অফিস প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়।

ঘটনার দিন ধারণ করা কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে অভিযুক্ত শিক্ষককে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ না করার কথা বলতে শোনা যায়। অন্যদিকে শিশুটির বক্তব্যেও শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিকবার অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠে আসে।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শিক্ষার্থীর দাদার দায়ের করা মামলায় আটক শিক্ষককে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হবে।