দুই সন্তান নিয়ে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার মুরাদপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন পোশাকশ্রমিক দম্পতি খোকন সরকার (৫৪) ও ফজিলত বেগম (৪০)। গত শুক্রবার রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর দগ্ধ হয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন খোকন ও ফজিলত। চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত মঙ্গলবার বিকেলে মারা যান খোকন সরকার। পরদিন বুধবার বাদ জোহর জানাজা শেষে তাঁর দাফন সম্পন্ন করার ঠিক ৪ ঘণ্টা পরই ফজিলত বেগমের মৃত্যুর সংবাদ পান স্বজনেরা। আজ বৃহস্পতিবার কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার উজানীকান্দি গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় এই দম্পতিকে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
নিহত খোকন সরকার কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ১০ নং গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের উজানীকান্দি গ্রামের মরহুম আব্দুল গফুরের দ্বিতীয় ছেলে এবং ফজিলত বেগম পাশের উজানীজোড়া গ্রামের নানু মিয়া খন্দকারের মেয়ে।
খোকন ও ফজিলত দম্পতি নারায়ণগঞ্জের মদনপুর এলাকার জাহীন গার্মেন্টসে পোশাকশ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ইউসুফ সরকার (২০) ও খাদিজা আক্তার (১৮) নামে তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। ঘটনার সময় সন্তানেরা গ্রামের বাড়িতে ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডে দেবিদ্বারের দুই পোশাকশ্রমিকের মৃত্যুর সংবাদ অত্যন্ত দুঃখজনক। সংবাদ পাওয়ার পর আমি ওই পরিবারের সদস্যদের দেখতে গিয়েছিলাম। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে।’