হোম > সারা দেশ > কুমিল্লা

চলাচলের সড়ক প্রশস্ত করতে প্রতিবেশীর ১৩ গাছ কর্তন, থানায় অভিযোগ

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কেটে ফেলা গাছের গুড়ি। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুমিল্লার দেবিদ্বারে ব্যক্তিগত চলাচলের সড়ক প্রশস্ত করতে প্রতিবেশীর অনুমতি ছাড়াই ১৩টি ফলজ ও কাঠের গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. শাহজাহান মিয়া দেবিদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

আজ রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের ময়নাল দারোগার বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে গাছ কাটার বিষয়টি জানা যায়।

ভুক্তভোগী মো. শাহজাহান মিয়ার অভিযোগ, তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রতিবেশী মিজানুর রহমান ও আব্দুর রাজ্জাক চলাচলের রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য তাঁর ৬টি ফলন্ত নারিকেল গাছ, ১টি সুপারি গাছসহ মোট ১৩টি ফলজ ও কাঠের গাছ কেটে ফেলেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি অসুস্থ। সড়ক প্রশস্তকরণের বিষয়ে শাহজাহানের ঢাকার বাসায় গিয়েছি। সে কোনোভাবেই রাস্তার জায়গা দিতে রাজি হয়নি। তাই তাঁর ভাইয়ের অনুমতি নিয়ে কয়েকটি গাছ কেটেছি। অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার জন্য আমার ছেলেরা তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়েছে।’

ভুক্তভোগী মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘আমি ঢাকায় থাকি। প্রতিপক্ষ আমার অনুপস্থিতিতে এবং আমার অনুমতি না নিয়েই জোরপূর্বক ১৩টি ফল ও কাঠের গাছ কেটে ফেলেছে। এসব গাছ আমার বাবা লাগিয়েছিলেন। গাছগুলো কেটে আমার বাবার লাগানো স্মৃতিগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা আমার ভাইকে চাপ প্রয়োগ করে এ কাজটি করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুটি পরিবারের ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের সড়ক প্রশস্ত করার স্বার্থে এ জুলুমের প্রতিবাদে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।’

অপর প্রতিবেশী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমাদের চলাচলের রাস্তাটি ৫০-৬০ বছর আগের। রাস্তাটি প্রশস্ত করার বিষয়ে শাহজাহান মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছি। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। পরে তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে কথা বললে তিনি অনুমতি দেন। তবে অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার জন্য ক্ষমা চেয়েছি এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা দিতে চেয়েছি। তিনি আমাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন।’

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম জারু বলেন, ‘আমরা সালিসে রাস্তা নির্মাণের পক্ষে রায় দিয়েছি। কারণ দীর্ঘ ৫০-৬০ বছর ধরে ব্যবহৃত রাস্তা বন্ধ করার এখতিয়ার কারও নেই। গাছ কাটার জন্য এক লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। শুনেছি শাহজাহান গাছ কাটার ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা নিতে রাজি, তবে সড়কের জন্য জমি ছাড়তে রাজি নন।’

বড়শালঘর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘রাস্তাটি শাহজাহান মিয়ার বাড়ির পেছনের দুই পরিবারের চলাচলের জন্য প্রয়োজন। তাই বলে জমির মালিককে না জানিয়ে জোরপূর্বক ফলসহ এতগুলো গাছ কেটে ফেলা ঠিক হয়নি। শুনেছি পরে তারা বৈঠক করে গাছ কাটার জন্য এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বললেও এখন টাকা দিতে রাজি নয়।’

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সড়ক প্রশস্তকরণে বেশ কিছু গাছ কাটার বিষয়টি পারিবারিক এবং চাচাতো ভাইদের মধ্যে। স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসার দায়িত্ব নিয়েছেন। সমাধান না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’