কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সিডিএম পরিবহনের একটি বাস উল্টে অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আজ রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডের কুমিল্লামুখী লেনের পেন্নাই ইউটার্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী সিডিএম পরিবহনের বাসটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। পেন্নাই ইউটার্ন এলাকায় পৌঁছালে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের কুমিল্লামুখী লেনের ওপর উল্টে যায়। এতে অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হন।
দুর্ঘটনার পর দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিস, দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা পুলিশ, গৌরীপুর তদন্ত কেন্দ্র পুলিশ, জেলা ট্রাফিক পুলিশ, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) দাউদকান্দি এবং স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর সাতজন বাড়ি ফিরে যান। অন্য আহতদেরও চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার পর বাসটি লম্বা সময় কুমিল্লামুখী লেনের একাংশজুড়ে উল্টে থাকায় ওই লেনে যান চলাচলের গতি কমে যায়। তবে বাসটির পাশ দিয়ে লেনের এক পাশ ব্যবহার করে যানবাহন চলাচল অব্যাহত ছিল। ফলে দীর্ঘ যানজট না হলেও দুর্ঘটনাস্থল এলাকায় যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দেয়।
মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশ, গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র পুলিশ ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করেন। পরে পুলিশের রেকার দিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে যান চলাচল আরও স্বাভাবিক হয়।
গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনায় প্রায় ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তবে এ ঘটনায় কেউ নিহত হননি। আহতদের দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে নেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।’
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করেছি। বাসটি মহাসড়কের এক পাশে উল্টে থাকায় ওই অংশে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছিল। পরে পুলিশের রেকারের মাধ্যমে বাসটি সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। মহাসড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের আরও সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানো প্রয়োজন।’