হোম > সারা দেশ > কুমিল্লা

প্রখ্যাত ওষুধবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক আর নেই

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

ওষুধবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রখ্যাত ওষুধবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও জনস্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক (৭৪) মারা গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর মেয়ের বাসায় অবস্থানকালে বাংলাদেশ সময় গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় তাঁর মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু দৈনিক সংবাদ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কাসেম হুমায়ুন।

পারিবারিক ও বন্ধুদের সূত্রে জানা যায়, অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন, ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক ছিলেন।

অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম হাবিবুর রহমান পেশায় সাবরেজিস্ট্রার ছিলেন। বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে পরিবারটি ঢাকার মিরপুর এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস গড়ে তোলে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ থেকে উচ্চতর শিক্ষা লাভের পর ড. আ ব ম ফারুক একই বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন ও ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসরের পর তিনি সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন ও ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যুক্ত হন।

জাতীয় ওষুধনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে ড. আ ব ম ফারুকের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশে মানসম্মত ও সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধ নিশ্চিত করতে তিনি কাজ করেছেন। ‘জাতীয় ওষুধনীতি, ২০১৬’ প্রণয়ন উপকমিটির আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

ভোক্তা অধিকার রক্ষায় নিরাপদ খাদ্য ও ওষুধ নিশ্চিতে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও নীতিনির্ধারণী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ২০১৯ সালে তাঁর নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার বাজারে থাকা বিভিন্ন পাস্তুরিত তরল দুধের ওপর একটি গবেষণা পরিচালনা করে।

ওই গবেষণায় বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দুধে অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিটারজেন্টের ক্ষতিকর উপস্থিতির তথ্য উঠে আসে। ফলাফল প্রকাশের পর তৎকালীন সরকারের কিছু আমলা ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাঁকে হুমকি ও আইনি ব্যবস্থার ভয় দেখানো হয়েছিল। চাপের মধ্যেও তিনি তাঁর অবস্থানে অনড় ছিলেন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয় এবং নাগরিক সমাজ তাঁর পাশে দাঁড়ায়।

মৃত্যুর আগপর্যন্ত জনস্বাস্থ্য সচেতনতা, ওষুধশিল্পের মান নিয়ন্ত্রণ, ভেজাল প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে ড. আ ব ম ফারুক গণমাধ্যমে সোচ্চার ছিলেন। কলামিস্ট হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকারের নীতিনির্ধারণী ত্রুটি সংশোধনে তিনি নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন।

অধ্যাপক আ বা ম ফারুককে কোথায় ও কখন দাফন করা হবে, সে বিষয়ে স্বজন ও বন্ধুরা এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।