কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে সরকারি নীতিমালা না মানার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১৫ দিনের মধ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে তিনি এ দাবি জানান। পরে চিঠিটি ‘জবাবদিহিতা’ পেজে পোস্ট করা হয় এবং এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
চিঠিতে এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন, সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দেবিদ্বারের বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনায় তিনি দাবি করেন, উপজেলার কোনো বেসরকারি হাসপাতালই সরকার নির্ধারিত বাধ্যতামূলক নীতিমালা ও ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করছে না।
চিঠিতে তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) হালনাগাদ লাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, অনুমোদিত বেডের দ্বিগুণের বেশি বেড স্থাপন, প্রয়োজনীয় ডিগ্রি ও অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ছাড়াই সার্জারি ও সিজার পরিচালনা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ BMDC রেজিস্ট্রেশনধারী চিকিৎসক ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট (SACMO) দিয়ে রোগী দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া চিঠিতে চিহ্নিত দালালের মাধ্যমে রোগী সংগ্রহ, সি-ক্যাটাগরির ল্যাবে অনুমোদন ছাড়া হরমোন ও ইলেকট্রোলাইট পরীক্ষা, TLD ব্যাচ ছাড়া রেডিয়েশন ঝুঁকিতে এক্স-রে করা এবং এক্স-রে কক্ষ বসবাসের জন্য ব্যবহারের মতো অভিযোগও করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে ভাঙা বাথরুম থাকায় সংক্রামক পরিবেশ তৈরি হওয়া, প্রসূতিদের লেবার রুম স্টোররুম হিসেবে ব্যবহার, আলট্রাসনোগ্রাফি ও CBC পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি আদায় এবং ক্যাশ মেমোতে টাকার অঙ্ক উল্লেখ না করার অভিযোগও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ চিঠিতে বলেন, সরকারি প্রামাণ্য তথ্য থাকা সত্ত্বেও এসব নিয়মবহির্ভূত ও মানহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া উদ্বেগজনক।
তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শর্তভঙ্গকারী ও অবৈধ বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে সিলগালাসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ১৫ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এবং এর মধ্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণকালে কোনো রোগীর স্বাস্থ্যহানি বা জীবনহানির ঘটনা ঘটলে এর দায় সিভিল সার্জন ও সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।
এ বিষয়ে এমপি হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, দেবিদ্বার উপজেলায় দেড় শতাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে শুধু দেবিদ্বার সদরে রয়েছে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান।