কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় অপহরণের পর ইসফাতুল ইসলাম জিসান (২৭) নামের ছাত্রদলের এক নেতার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার দিবাগত রাত ৩ টার দিকে উপজেলার খুটাখালী মেধাকচ্ছপিয়া এলাকায় মহাসড়কের পাশে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে অপহরণ ও হত্যার পর মরদেহ সেখানে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
নিহত জিসান কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ লোটনী গ্রামের নাজেম উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত ১২টার দিকে কাকারা এলাকা থেকে সাদা রঙের একটি নোয়া গাড়িতে করে জিসানকে তুলে নিয়ে যায় একদল দুর্বৃত্ত। খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাঁর খোঁজ শুরু করেন।
পরে রাত ৩টার দিকে খুটাখালী মেধাকচ্ছপিয়া এলাকায় মহাসড়কের পাশ থেকে জিসানের মরদেহ উদ্ধার করে চকরিয়া থানা-পুলিশ।
ছাত্রদল নেতাদের দাবি, জিসানকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে তাঁকে হত্যা করে একটি সুতার বস্তায় ভরে মহাসড়কের পাশে ঝোপের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়।
ছাত্রদল নেতাদের ভাষ্য, জিসানকে এর আগে চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ আবাসিক এলাকার কবির টাওয়ারে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয়।
চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম বাপ্পী বলেন, ‘জিসানকে অপহরণ করে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। নতুবা সাধারণ ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রদল রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামবে।’
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের কয়েকটি দল কাজ করছে। নিহতের গলা ও কপালে আঘাতের দাগ রয়েছে। কী কারণে তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।