কক্সবাজারের চকরিয়া-বদরখালী-মহেশখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের মাতামুহুরী নদীর ওপর একসময় বেইলি সেতু ছিল। কয়েক দফায় সেতুটি ভেঙে পড়ায় সেটির পাটাতন অপসারণ করা হয়। নির্মাণ করা হয় গার্ডার সেতু। তবে ১১ বছরেও আগের সেতুর চারটি খুঁটি অপসারণ করা হয়নি। এতে নদীর পানির স্রোত বাধাগ্রস্ত হয়ে বর্তমান সেতুর এক পাশের গোড়া থেকে মাটি ধসে বড় গর্ত হয়ে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে সেতুর দুই পাশের বেড়িবাঁধও। এরই মধ্যে এক পাশের বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ফলে ভাঙনের কবলে ঝুঁকিতে পড়েছে চার উপজেলার মানুষ এবং মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের যানবাহন চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি। দ্রুত খুঁটিগুলো অপসারণ করা না হলে সেতুটি আরও ঝুঁকিতে পড়বে।
গত শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নে মাতামুহুরী নদীর ওপর বাটাখালী সেতুর অবস্থান। এটি ব্যবহার করে চকরিয়া, মাতামুহুরী, পেকুয়া ও মহেশখালী উপজেলার মানুষের সড়ক যোগাযোগ চলছে। এ সেতুর পূর্ব পাশে চকরিয়া পৌরসভা ও পশ্চিম পাশে মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়ন পড়েছে। পাকা সেতুর অন্তত ১০ ফুট কাছেই নদীর মাঝখানে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে চারটি পিলার। নদীর স্রোত এসে পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগছে। এরপর পানির তোড় গিয়ে বেড়িবাঁধে আঘাত হানছে। এতে সেতুর সংযোগ সড়কের পূর্ব পাশের গোড়ার মাটি সরে গেছে। ভাঙন দেখা দিয়েছে বাঁধে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের চকরিয়া উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮২ সালে মাতামুহুরী নদীর ওপর নির্মিত বেইলি সেতুটির একটি অংশ ১৯৯৬ সালে ভেঙে পড়ে যায়। সংস্কারের পর ২০০৩ সালে আবারও সেতুর পাটাতন খুলে নদীতে পড়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীকালে একই স্থানে ২০০৬ সালে গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কয়েক দফায় কাজ বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রামের ম্যাক মেজবাহ জয়েন্ট ভেঞ্চার নামের একটি ঠিকাদারিপ্রতিষ্ঠান সেতুটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করেন। ১৭০ দশমিক ৭২ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ দশমিক ৭৫ মিটার প্রস্থের সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১০ কোটি ৮২ লাখ টাকা। তবে বেইলি সেতুর চারটি পিলার অপসারণ না করেই ২০১৫ সালের ২০ আগস্ট যান চলাচলের জন্য সেটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রতিদিন এ সড়কে প্রায় ১২ হাজার যানবাহন চলাচল করে।
চকরিয়া পৌরসভার বাটাখালী গ্রামের সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘বাটাখালী সেতু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার যোগাযোগের মাধ্যম চকরিয়া-বদরখালী-মহেশখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক। সড়কটির চকরিয়ার অংশে সেতুর পূর্ব পাশে সংযোগ সড়কের মাটি সরে গিয়ে সেতুটি ঝুঁকিতে রয়েছে।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগের চকরিয়া উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আবু হানিফ বলেন, ‘বাটাখালী সেতু পরিদর্শন করে মাটি সরে যাওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, ‘বাটাখালী সেতুর পূর্ব পাশের মাটি সরে যাওয়ার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে সওজকে জানানো হবে।’