শারদীয় দুর্গোৎসব ও প্রবারণা পূর্ণিমার টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ভিড় বেড়েছে। আজ মঙ্গলবার কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে উপচে পড়া ভিড় ছিল পর্যটকদের। আগামীকাল বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে লাবণী পয়েন্টে দেশের বৃহত্তম প্রতিমা বিসর্জন উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এই আয়োজন ঘিরে বড় ধরনের জনসমাগমের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হোটেলমালিক ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বুধ থেকে শনিবার পর্যন্ত অধিকাংশ হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউসের ৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে।
আজ বিকেলে লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে সৈকতের বালুচর। কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করছেন, কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তুলছেন। প্রতিমা বিসর্জনের উৎসব দেখতে দূরদূরান্ত থেকেও অনেকে এসেছেন।
সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি হিমছড়ি, ইনানী ও মেরিন ড্রাইভের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রেও দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়ছে। পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পর্যটনসেবা খাতের কর্মীদের মধ্যে বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য দেখা গেছে।
তবে পর্যটনশিল্পে স্বস্তির পাশাপাশি উদ্বেগও রয়েছে। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) উখিয়ার পাটুয়ারটেকের টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর পর মেরিন ড্রাইভের সৈকতঘেঁষা রিসোর্ট ও কটেজে রাতযাপনের বিষয়ে অনেকের মধ্যে অস্বস্তি কাজ করছে।
পর্যটকদের কেউ কেউ আগাম বুকিং বাতিল করছেন। অনেকে মেরিন ড্রাইভের রিসোর্টের পরিবর্তে শহরের হোটেল বেছে নিচ্ছেন। ফলে সৈকতে পর্যটকের ভিড় বাড়লেও মেরিন ড্রাইভের কিছু রিসোর্ট ও কটেজে অতিথির সংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছেন কলাতলী হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান।
ময়মনসিংহ শহর থেকে দুর্গাপূজার ছুটি কাটাতে পরিবার নিয়ে এসেছেন চিকিৎসক সুজয় পাল। তিনি বলেন, পূজার ছুটি কাটাতে এই প্রথম কক্সবাজার আসা। সব মিলিয়ে ভালো কাটছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলামও লম্বা ছুটিতে কক্সবাজার ঘুরতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘বরাবরই আমার কক্সবাজার পছন্দের। এখানে পাহাড়-সমুদ্র একসঙ্গে দেখার সুযোগ আছে।’ সৈকতের নিরাপত্তাব্যবস্থায়ও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
সৈকতে পর্যটকদের সেবায় নিয়োজিত জেলা প্রশাসনের বিচকর্মীদের সহকারী সুপারভাইজার বেলাল হোসেন বলেন, আজ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সৈকতের তিনটি পয়েন্টে কমপক্ষে ৮০ হাজার পর্যটক নেমেছেন। আগামীকাল থেকে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তায় প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সাগরপাড়ের পাঁচ তারকা মানের হোটেল কক্স টুডেতে ২৪৫টি কক্ষ রয়েছে। হোটেলটির ৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং রয়েছে বলে জানিয়েছেন এর মহাব্যবস্থাপক (রিজার্ভেশন) আবু তালেব শাহ। তিনি বলেন, মূলত আগামীকাল থেকে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত অতিথির চাপ আছে।
মাঝারি মানের হোটেল-রিসোর্ট ও গেস্টহাউসগুলোতেও ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং রয়েছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। কক্সবাজার শহর ও আশপাশের এলাকার পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউসে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার পর্যটকের রাতযাপনের সুবিধা রয়েছে বলে জানিয়েছেন হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার।
আবুল কাশেম সিকদার বলেন, পর্যটকদের সেবা ও নিরাপত্তার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে।