হোম > সারা দেশ > চুয়াডাঙ্গা

চাঁদার দাবিতে ব্যবসায়ীর অফিসে ভাঙচুর-লুটপাট, ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি­

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় চাঁদার দাবিতে সিঅ্যান্ডএফ (ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং) ব্যবসায়ীর অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে যুবদল ও ছাত্রদলের দুই নেতাকে আটকের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবদল নেতা রকিবুল ইসলাম ব্রাইটকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। এ ছাড়া ২১ জনের নাম উল্লেখ করে দর্শনা থানায় সন্ত্রাস দমন আইন ও চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দর্শনা থানা যুবদলের সদস্য রকিবুল ইসলাম ব্রাইট ও কলেজ ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ আমিন।

ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি আমদানিকৃত পাথরের চালানের পণ্য খালাসের একটি কাজ নিয়ে আরেক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মোহাম্মদ রায়হানের সঙ্গে ব্যবসায়িক বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিরোধের সুযোগে একটি চক্র তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

বৃহস্পতিবার রাতেও তাঁকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরদিন শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে আবারও টাকা না দিলে অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর হুমকি দেওয়া হয়। শুক্রবার দুপুরে দর্শনা রেলগেট এলাকায় তাঁর অফিসে লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল লোক হামলা চালায় বলে এজাহারে উল্লেখ করেন তিনি।

রফিকুলের দাবি, হামলাকারীরা অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফটোকপি মেশিন ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ সময় অফিসে থাকা ২৩ লাখ ৩০ হাজার নগদ টাকা ও স্বাক্ষর করা দুটি ব্যাংক চেক লুট হয়েছে।

এ ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে প্রথমে চারজনকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যুবদল নেতা ব্রাইট ও ছাত্রদল নেতা আমিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শুক্রবার রাতেই ২১ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করে সন্ত্রাস দমন ও চাঁদাবাজির মামলা রুজু করা হয়।

দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান চলছে।

এদিকে, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রাকিবুল হাসান ব্রাইটকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের অভিযোগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দর্শনা পৌর যুবদলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে বহিষ্কৃত ওই নেতার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।