হোম > সারা দেশ > চুয়াডাঙ্গা

আলমডাঙ্গায় মোটরসাইকেলসহ মিলাদের খিচুড়িও নিল ছিনতাইকারীরা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি­

গতকাল রাতে আলমডাঙ্গার বেলগাছি ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের ঘোড়ামারা মাঠে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় অস্ত্রের মুখে দুই ব্যক্তিকে জিম্মি করে দুটি মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় দুজনকে একটি মেহগনিবাগানে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছিনতাইকারীরা নগদ টাকার পাশাপাশি মিলাদের তিন প্যাকেট খিচুড়িও নিয়ে যায়। সোমবার রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের ঘোড়ামারা মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীরা হলেন বেলগাছি ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের হারাম মণ্ডলের ছেলে বিপ্লব হোসেন এবং জেহালা ইউনিয়নের গড়চাপড়া গ্রামের মাঠপাড়ার বদরুদ্দিনের ছেলে শুকুর আলী।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, তাঁরা পৃথক মোটরসাইকেলে গড়চাপড়া গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। ঘোড়ামারা মাঠে পৌঁছালে কয়েক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের পথরোধ করেন। পরে অস্ত্রের মুখে তাঁদের রাস্তা থেকে দূরে একটি মেহগনিবাগানে নিয়ে গিয়ে হাত ও মুখ বেঁধে গাছের সঙ্গে আটকে রাখা হয়।

বিপ্লব হোসেন বলেন, ‘জমি বন্ধক রাখার বিষয়ে কথা বলতে আমি মোটরসাইকেলে করে গড়চাপড়ায় যাচ্ছিলাম। মাঠের ভেতর একটি ছোট পুলের কাছে পৌঁছালে হাফপ্যান্ট পরা, গামছা ও কালো মাস্কে মুখ ঢাকা কয়েক ব্যক্তি আমার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। পরে আরও কয়েকজন এসে আমার কলার ধরে মাথায় দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে ফেলে।’

তিনি বলেন, ‘এরপর আমার হাত ও মুখ বেঁধে দুজন আমাকে মাঠের মধ্যে একটি মেহগনিবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে গাছের সঙ্গে বেঁধে একজন পাহারায় থাকে। কিছুক্ষণ পর দুই শিশুসহ আরও একজনকে সেখানে এনে একইভাবে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। এ সময় আমার কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।’

অন্য ভুক্তভোগী শুকুর আলী বলেন, ‘আমি দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে মিলাদ শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলাম। ঘোড়ামারা মাঠে পৌঁছালে কয়েকজন আমার মোটরসাইকেলের সামনে দাঁড়িয়ে পথরোধ করে। এ সময় একজন আমার গলায় রামদা এবং শিশুদের গলায় ছুরি ঠেকিয়ে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায়।’

শুকুর আলী আরও বলেন, ‘পরে আমার ও দুই শিশুর হাত-মুখ বেঁধে টেনে একটি মেহগনিবাগানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় একজনকে দেখতে পাই। পরে আমাকেও পাশের একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে একজন পাহারায় থাকে। এ সময় আমার কাছ থেকে ৫০ টাকা ও মিলাদের তিন প্যাকেট খিচুড়ি নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।’

তিনি জানান, কিছুক্ষণ পর পাহারায় থাকা ব্যক্তি দূরে সরে গেলে তিনি গাছের সঙ্গে ঘষে হাতের বাঁধন খুলে ফেলেন। পরে দুই সন্তানকে নিয়ে ফাঁকা মাঠের মধ্য দিয়ে দৌড়াতে থাকেন। প্রায় দেড় কিলোমিটার মাঠ পেরিয়ে গ্রামের লোকজনকে বিষয়টি জানান এবং তাঁদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে ফিরে আসেন। তবে সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, খবর পেয়ে তাঁরা মাঠের দিকে ছুটে গেলেও ঘটনাস্থলে ডাকাত দলের কাউকে পাওয়া যায়নি। ছিনতাই হওয়া দুটি মোটরসাইকেলেরও কোনো সন্ধান মেলেনি। সন্ধ্যার পর জনবসতির কাছাকাছি এলাকায় এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাণী ইসরাইল বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।’