হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

গণ-অভ্যুত্থানে বিতাড়িত ফ্যাসিবাদীরাই দেশকে অস্থিতিশীল করছে: বিক্ষোভ সভায় এমপিরা

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

কর্ণফুলীর এ জে চৌধুরী কলেজ মাঠে বিএনপির প্রতিবাদ সভায় ৪ সংসদ সদস্য। ছবি: আজকের পত্রিকা

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারীরা সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের চার সংসদ সদস্য (এমপি)। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে কর্ণফুলীর এ জে চৌধুরী কলেজ মাঠে বিএনপির প্রতিবাদ সভায় তাঁরা বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা হবে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি ও দক্ষিণ জেলার এমপিদের উদ্যোগে সারা দেশে সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের প্রতিবাদে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের এমপি সরওয়ার জামাল নিজাম।

সভায় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১২ আসনের এমপি এনামুল হক এনাম এবং চট্টগ্রাম-১৪ আসনের এমপি জসিম উদ্দিন।

এমপিরা বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারীরা আবারও পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। ১৭ বছর লুটপাট করে দেশকে অস্থিতিশীল করে পালিয়ে গিয়ে আবার ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে তারা। তাদের এই স্বপ্ন জিয়ার সৈনিক ও তারেক রহমানের সৈনিকেরা কখনো বাস্তবায়ন হতে দেবেন না। বিএনপি সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করবে।

আবু সুফিয়ান বলেন, ‘দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে আজকের এই সমাবেশ। কোনো মিছিল, পোস্টার বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিএনপিকে শঙ্কিত করা যাবে না। আমরা ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ আছি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’

আবু সুফিয়ান আরও বলেন, অতীতে বিএনপির মিটিং-মিছিলে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা ছিল। বর্তমানে নিষিদ্ধঘোষিত কোনো রাজনৈতিক সংগঠন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে চাইলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুসংহত করা ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি কাজ করবে। কোনো ষড়যন্ত্র বা ভয়ভীতি দেখিয়ে বিএনপির অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না। নেতা-কর্মীদের ইস্পাতকঠিন ঐক্য বজায় রেখে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার কর্মসূচি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে।

চট্টগ্রাম-১২ আসনের এমপি এনামুল হক এনাম বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম ও জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে আমরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। জনগণ আমাদের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব দিয়েছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টাকারীদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।’

এনামুল হক এনাম আরও বলেন, যাঁরা নির্বাচনের সময় ধানের শীষের বিরোধিতা করেছেন, তাঁদের এখন চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন নিয়ে চিন্তাভাবনা করা উচিত নয়। সংসদ সদস্যদের হুমকি দিয়ে লাভ হবে না।

জসিম উদ্দিন বলেন, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, ফ্যাসিবাদ ও ধর্মের নামে ব্যবসার বিরুদ্ধে দক্ষিণ চট্টগ্রামের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। বিএনপি হিমালয় পাহাড়ের মতো শক্তিশালী। কোনো অপশক্তি এই ঐক্যকে দুর্বল করতে পারবে না। নিজ নিজ এলাকায় সন্ত্রাস ও অরাজকতা প্রতিরোধে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

জসিম উদ্দিন আরও বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর দুর্ভোগ কমাতে ছয় লেনের সড়ক নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নেতা-কর্মীদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সংসদ সদস্য ও স্থানীয় নেতাদের পরামর্শের ভিত্তিতে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

কর্ণফুলীর এ জে চৌধুরী কলেজ মাঠে বিএনপির প্রতিবাদ সভায় ৪ সংসদ সদস্য। ছবি: আজকের পত্রিকা

সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ষড়যন্ত্র চলছে। যারা সন্ত্রাস ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করা হবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যরা নেতা-কর্মীদের পাশে থাকবেন বলেও তিনি জানান।

সরওয়ার জামাল নিজাম আরও বলেন, নির্বাচনের সময় যাঁরা বিরোধীপক্ষকে সমর্থন দিয়েছিলেন, তাঁদের ষড়যন্ত্রের মধ্যেও জনগণের সমর্থন নিয়ে বিজয় অর্জন সম্ভব হয়েছে। আগামী দিনেও সব অপচেষ্টা মোকাবিলায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের নেতা-কর্মী ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস, সদস্য ও কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম মামুন মিয়া, সদস্যসচিব হাজি মুহাম্মদ ওসমান, জেলা যুবদলের মোহাম্মদ শাহজাহান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হায়দার চৌধুরী এবং আনোয়ারা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হারেছ আহমেদ হারেছসহ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার নেতা-কর্মীরা।