হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

প্রভোস্টসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা চবি শিক্ষার্থীর, প্রতিবাদে হল গেটে তালা

চবি প্রতিনিধি 

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় চবির শাহ আমানত হলের প্রধান গেটে তালা দিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলের প্রভোস্টসহ চারজনের বিরুদ্ধে এক আবাসিক শিক্ষার্থীর মামলা দায়েরের প্রতিবাদে হলের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তালা দেওয়া হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা তালা খুলে দেন।

মামলাটি করেছেন শাহ আমানত হলের আবাসিক ছাত্র ও রসায়ন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রুবেল রানা।

জানা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর হলে ভলিবল খেলা নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে রুবেল রানার সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থীর কথা-কাটাকাটি হয়। পরে হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আজাদসহ কয়েকজন তাঁকে হুমকি দেন। পরদিন ৩ সেপ্টেম্বর সকালে আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রিয়াজ মাহমুদ তাঁর গায়ে হাত তুলেছেন বলেও অভিযোগ করেন রুবেল রানা।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে হল প্রভোস্ট, হল প্রশাসন, হল সংসদ ও প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। এ সময় রুবেল রানা মুচলেকা দেন।

এরপর গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে হাটহাজারী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন রুবেল রানা। পরে ১৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন তিনি।

মামলায় আসামি করা হয় শাহ আমানত হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মনিরুল হাসান চৌধুরী, স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আজাদ, মেরিন সায়েন্স বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন আরাফাত, আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রিয়াজ মাহমুদ এবং পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী পলাশ দাসকে। মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে অনলাইনে হয়রানি, মারধর ও গালিগালাজের অভিযোগ আনা হয়।

মঙ্গলবার রাতে মামলার বিষয়টি জানাজানি হলে শাহ আমানত হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁরা এ ঘটনার প্রতিবাদে হলের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রুবেল রানা প্রায়ই হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের অনলাইনে হয়রানি করেন এবং তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাঁদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান।

আবাসিক শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, রুবেল রানার কক্ষ সঙ্গীসহ অনেক আবাসিক শিক্ষার্থী তাঁর কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ। তাঁরা আরও দাবি করেন, রুবেল রানা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এবং মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হলের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। শিক্ষার্থীরা তাঁকে শাহ আমানত হল থেকে বহিষ্কারের দাবিও জানান।

মেরিন সায়েন্স বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও হলের আবাসিক ছাত্র মো. ইয়াছিন আরাফাত বলেন, ‘রুবেল রানা হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারেন না। তাঁর বিরুদ্ধে সব শিক্ষার্থী নিয়মিত অভিযোগ দেন। তিনি মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আমরা এই মামলা প্রত্যাহার চাই। এ ঘটনায় তাঁর উপযুক্ত শাস্তি চাই।’

মামলাকারী রুবেল রানা বলেন, ‘আমাকে জুনিয়র দিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে, মারধর করা হয়েছে। আমি কারও কাছে কোনো বিচার পাচ্ছি না। আমি হলে নিরাপদ বোধ করছি না। তাই আমি মামলা করেছি।’

এদিকে তালা দেওয়ার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে যায়। শাহ আমানত হলের আবাসিক শিক্ষকেরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুল হোসেন বলেন, ‘আমানত হলে তালা দেওয়ার ঘটনায় প্রক্টরিয়াল বডি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। অভিযুক্তকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের শান্ত করে পরে তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’